বাংলাদেশ

মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা

অবশেষে ঢাবিতে পড়ার স্বপ্নপূরণ প্রতিবন্ধী হৃদয়ের

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

অবশেষে ঢাবিতে পড়ার স্বপ্নপূরণ প্রতিবন্ধী হৃদয়ের

ফাইল ছবি

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী নেত্রকোনার হৃদয় সরকার অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাকসুদ কামাল এ তথ্য জানান।

কলা অনুষদভুক্ত 'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন হৃদয় সরকার। মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সে সময় হৃদয় সরকার সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদও ছাপা হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় হৃদয় সরকার তিন হাজার ৭৪০ মেধাক্রম অর্জন করেন। তবে এই অনুষদের আসন সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৩৭৮টি। ফলে তার ভর্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মেধায় সুযোগ না পেলেও কোটায় সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করেন অনেকে।

তবে ভর্তির জন্য কলা অনুষদের ডিন অফিসে যোগাযোগ করলে 'প্রতিবন্ধী কোটার নিয়ম' দেখিয়ে কোটায় আবেদনের ফর্মই দেওয়া হয়নি তাকে। ডিন অফিস থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রতিবন্ধী কোটার নিয়মে শুধু 'বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি' প্রতিবন্ধীরা সুযোগ পাবেন। তিনি এ ক্যাটাগরিতে পড়েন না। 

তবে এদিন ডিনস কমিটির সভায় 'বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি' প্রতিবন্ধীর সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধীর বিষয়টি যোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন হৃদয় সরকার।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, মানবিক সমাজ নির্মাণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী কোটার নীতিমালায় সংস্কার আনা হয়েছে। সমাজে শারীরিক বা মানসিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা ভর্তি হতে আসে তারা যাতে কোনো বঞ্ছনার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা 'বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি' প্রতিবন্ধীর সঙ্গে 'শারীরিক প্রতিবন্ধীর' বিষয়টি সংযোজন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, 'হৃদয়কে ভর্তি করানোর বিষয়ে ডিন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হৃদয় সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শারীরিকভাবে যারা অক্ষম এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা পড়ালেখায় আরও উৎসাহ পাবে। তিনি বলেন, আমার এ পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি মা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মুসলিম দেশগুলোর সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে নবনিযূক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি

  অনলাইন ডেস্ক

মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের প্রতি জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো সমস্যা থাকলে মুসলিম দেশগুলোকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। 

তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর একসাথে থাকা উচিত। তাদের মাঝে যদি কোনো সমস্যা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। খবর বাসস ও ইউএনবির

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর বুধবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে শেখ হাসিনা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।

ইরানের জনগণকে সাহসী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইরানের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অসাধারণ দিকসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নে তার সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এবং তাদের লক্ষ্য নিকট ভবিষ্যতে তা আরও ৪-৫ শতাংশ কমিয়ে আনা।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে ভূয়সী অভিনন্দন জানান এবং শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের জনগণ তাকে খুবই পছন্দ করে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। 

রেজা নাফর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে থাকা সুষম নীতি এবং দেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

‘স্কুটির সঙ্গে আমার রুটি-রুজিও ফিরে পেলাম’


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

‘চোর শুধু আমার স্কুটি চুরি করেনি, আমার রুটি-রুজিও নিয়ে গিয়েছিল। স্কুটির সঙ্গে আমার রুটি-রুজিও ফিরে পেলাম।’ স্কুটি ফিরে পাওয়ার পর  বুধবার ‍দুপুরে তেজগাঁও ডিসি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ আক্তার পুতুল এসব কথা বলেন।

স্কুটি পেয়ে সেটি ওড়না দিয়ে মুছতে শুরু করেন বাইকটি। বাইকটি উদ্ধার করে দেওয়ায় তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

স্কুটিটি পেয়ে কেমন লাগছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেমন লাগছে তা বলে বুঝাতে পারব না। চোর শুধু আমার স্কুটি চুরি করেনি, আমার রুটি-রুজিও নিয়ে গিয়েছিল। স্কুটির সঙ্গে আমার রুটি-রুজিও ফিরে পেলাম।

তিনি বলেন, বাইকটি চুরি হওয়ার পর আমার মাও আমাকে বকা দিয়েছে। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছেন, কেন আমি চাবি দিলাম তাকে? আমাকে সবাই অন্য কোনও পেশা খুঁজতেও বলছিল। কিন্তু আমি এটা করতেই পছন্দ করি। কারণ, আমার দুই সন্তানকে বাসায় দেখার কেউ নেই। সন্তানদের বাবাও আমি মাও আমি। আমি সন্তানদের কষ্ট দিতে চাই না।

বুধবার ভোর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ওই বাইকটি উদ্ধারের পাশাপাশি আটক করা হয়েছে জোবাইদুল (২৬) নামের এক যুবককে।

রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে প্রতারণার মাধ্যমে বাইকটি চুরি করে নিয়ে যান ওই যুবক। এ ঘটনায় শাহনাজ আক্তার শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ করেন।

স্মার্টফোনের অ্যাপভিত্তিক সেবা উবারের মাধ্যমে প্রায় এক মাস ধরে মোটরবাইক চালাচ্ছেন শাহনাজ আক্তার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এরই মধ্যে ব্যাপক পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি। শাহনাজের বাইকটি চুরির পর ফেসবুকে অনেককেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে।

পরের
খবর

খালেদা জিয়ার পায়ে ফোঁড়া


আরও খবর

বাংলাদেশ
খালেদা জিয়ার পায়ে ফোঁড়া

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

খালেদা জিয়া -ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পরোয়ানা থাকার পরও পায়ে ফোঁড়া ওঠায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বুধবার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে পিছিয়ে গেছে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির শুনানির দিন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন দিন ঠিক করা হয়েছে ২৪ জানুয়ারি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার বুধবার এই দিন ঠিক করেন।

বুধবার ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে এই শুনানির দিন ছিল। এই শুনানিতে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে গত ১০ জানুয়ারি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন একই বিচারক।

বুধবার খালেদাকে হাজির করতে না পারার কারণ হিসেবে ‘তার অসুস্থতা’ দেখিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। তাকে আজ হাজির করতে পারিনি। তার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য আসামিদের পক্ষে শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলাম। শুনেছি তার (খালেদা জিয়া) পায়ে ফোঁড়া উঠেছে, এজন্য তিনি আসেননি।

দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর