বাংলাদেশ

৪০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান

যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ— আইএসপিআর

  সমকাল প্রতিবেদক

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামস্থ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৪০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে (মেকানাইজড) জাতীয় পতাকা দিয়েছেন। সেনাবাহিনী প্রধান প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি লে. জেনারেল মো. নাজিম উদ্দীন, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাবিবুল করিম।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, 'কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্তব্য নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আপনারা পেলেন, আশা করি তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সব সময় প্রস্তুত থাকবেন। জাতির আস্থা অটুট রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।'

সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিটের কর্মদক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সেনাবাহিনী তথা জাতীয় উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধ ও শান্তিকালীন বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে এ জাতীয় পতাকা দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালের ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ৪০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তথা 'চিরঞ্জীব চল্লিশ' দীর্ঘ ৩৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং অবদানের স্বীকৃতিরূপে এ সম্মানে ভূষিত হয়।

গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ: অফিসার্স গানারি স্টাফ কোর্স (এয়ার ডিফেন্স)-৯-এর গ্র্যাজুয়েশন সিরিমনি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়। সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি থেকে গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের মধ্যে 'জি+সার্টিফিকেট' তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ রিসার্চ পেপার পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ টেকনিক্যাল প্রজেক্ট পুরস্কার দেওয়া হয়। এ কোর্সে পাঁচজন বিদেশি কর্মকর্তাসহ ১৭ জন অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

তফসিলের পরই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও ওই সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের দেওয়া নাম। এগুলো সাংবিধানিক নাম নয়। সংবিধানে ওভাবে লেখা নেই।

নির্বাচনকালীন সরকার রুটিন কাজের মধ্যে আইন পাস করতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন উঠতে পারে। তবে সংসদ না থাকায় পাস হবে না। আইন করতে বাধা নেই। এ ছাড়া আইন অনুমোদনের কাজ মন্ত্রিসভার নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। এটাকে রুটিন কাজই বলা যায়। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প এগুলোকে স্পর্শ করে না।

মোহাম্মদ শফিউল আলম আরও বলেন, সরকার তো নিয়মিতই আছে, কোনো সমস্যা তো দেখছি না। নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকারের টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীকে গত ৫ নভেম্বর পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনার পর তারা পদত্যাগপত্রও জমা দেন। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে তারা পরদিন থেকেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। তাদের পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, শুক্রবারই তা জানা যেতে পারে। এবার মন্ত্রিসভায় নতুন করে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা নাও হতে পারে বলে সেদিন তিনি ইঙ্গিত দেন। নির্বাচনকালীন সরকার বা মন্ত্রিসভার পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, না, এ রকম কোনো সংবাদ নেই। তবে তফসিল যেহেতু হয়ে গেছে, তাই বর্তমান সরকারকেই নির্বাচনকালীন সরকার বলা যায়।

ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন: বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন ও কাজের পরিধি বাড়িয়ে 'বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৮'-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম বদলে 'বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন' নামকরণ করা হবে। ১৯৭৩ সালে একটা রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ট্যারিফ কমিশন শুরু করা হয়। পরে ১৯৯২ সালে প্রণীত আইনে কিছুটা সংশোধন করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

আগরতলায় যাবে বাংলাদেশি ট্রাক: দেশে নৌ চলাচল সহজ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন প্রটোকল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। দু'দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড' শীর্ষক চুক্তির খসড়ার ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-আগরতলা সরাসরি পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেলার চলাচল করতে পারবে। সীমান্তে ট্রাক বদলের প্রয়োজন হবে না। খননকাজের ৮০ ভাগ ব্যয় বহন করবে ভারত এবং ২০ ভাগ বহন করবে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া নৌ জাহাজে কোনো নাবিক মারা গেলে তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতো; নাবিকদের মরদেহ নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ইসির নির্দেশ


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালনে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। 

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এতে প্রতি উপজেলায় একজন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত প্রতি তিন থেকে চারটি ওয়ার্ডের জন্য একজন, সিটি করপোরেশন ছাড়া জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় এক থেকে দু'জন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। 

এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত তিন থেকে চারটি উপজেলার জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খানের সই করা এই চিঠিতে ভোট গ্রহণের পরদিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রাখার কথাও বলা হয়েছে। 

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সংশ্নিষ্ট উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এবং যেসব সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মরত নেই, সেসব উপজেলায়, জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অথবা বিভাগীয় বা অন্য কোনো অফিস অথবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থী-সমর্থকদের জরিমানা বা কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কাজী নজরুলসহ যে বাঙালিরা গিয়েছিলেন বিশ্বযুদ্ধে


আরও খবর

বাংলাদেশ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতীয় সৈন্যদের বহর— বিবিসি বাংলা

  অনলাইন ডেস্ক

আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর এক মাস আগের ঘটনা। অবিভক্ত ভারতের নদীয়ার বাসিন্দা মহিরুদ্দিন মণ্ডল মারা গেলেন তৎকালীন মেসোপটেমিয়া বা বর্তমানের ইরাকে। সেই সময়ে তাদের অবস্থান ছিল বসরা শহরের দক্ষিণে। তারও কয়েক মাস আগে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল বগুড়ার ভোলানাথ চৌধুরী, ঢাকার জগদীশ চন্দ্র বসু, বর্ধমানের বগলাচরণ ব্যানার্জী ও ময়মনসিংহের প্রমথনাথ ঘোষকে।

মহিরুদ্দিন মারা যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই, ৩০ অক্টোবর, ১৯১৮ মেসোপটেমিয়ার যুদ্ধ শেষ হয় তুর্কি সেনাবাহিনীর পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে। আর তার কয়েকদিনের মধ্যেই ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বরে শেষ হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

বাংলার নানা জেলা থেকে এদের মতো আরও অনেক তরুণ, যুবক গিয়েছিলেন সেখানে যুদ্ধ করতে। পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের নিয়ে গড়া হয়েছিল বেঙ্গলি রেজিমেন্ট, যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'ফর্টিনাইনথ বেঙ্গলি রেজিমেন্ট'। এই ফর্টিনাইনথ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের হয়েই যুদ্ধে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আরও এক বহুল পরিচিত বাঙালিও এই রেজিমেন্টে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার চোখের দৃষ্টিশক্তি কম থাকায় তাকে বাহিনীতে ভর্তি করা যায়নি।কয়েক দশক পরে অবশ্য সেই বাতিল হয়ে যাওয়া সৈনিকই ব্রিটিশ সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার নাম সুভাষ চন্দ্র বসু, ভারত বর্ষের মানুষের কাছে যিনি 'নেতাজী' হিসেবেই বেশি পরিচিত।

বাঙালিদের তখনও লড়াকু, যোদ্ধা জাতি বলে মনেই করা হতো না, তাই যখন যুদ্ধ বাধল ১৯১৪ সালে, তখন গোড়ার দিকে বাঙালিদের সেনাবাহিনীতে ভর্তি করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ব্রিটিশ সরকারের।

এছাড়া যে বাঙালিরা যুদ্ধের ক'বছর আগেই বঙ্গভঙ্গ রোধ করতে পথে নেমেছিল এবং যার শাস্তিস্বরূপ কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেই ইতিহাসবিদদের অনেকে মনে করেন, সেই বাঙালিরা যুদ্ধের প্রশ্নে কী অবস্থান নেবে, তা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেঙ্গল ল্যান্সারসের সৈনিক— বিবিসি বাংলা

যদিও অন্যান্য প্রদেশ থেকে সেনাবাহিনীতে প্রচুর সংখ্যায় লোক নেওয়া হচ্ছিল বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই, দেশীয় রাজা-নবাবরা বিপুল পরিমাণে অর্থ এবং লোকবল দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন ব্রিটিশ সরকারকে। কিন্তু বাঙালিদের সেনাবাহিনীতে নেওয়ার কথা তারা মাথাতেই আনেনি।

ব্রিটিশ সরকার গোড়ায় শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা, পরিবহন সেবার এবং সিগনালিংয়ের মতো কাজগুলোতে বাঙালিদের নিয়োগ করেছিল। কিন্তু লড়াইয়ের ময়দানে তাদের পাঠাতে আগ্রহ ছিল না। এই সময়ে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এগিয়ে এলেন এই দাবি নিয়ে, যে বাঙালিদেরও সেনাবাহিনীতে নেওয়া হোক, তাদেরও পাঠানো হোক যুদ্ধে।

এদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলে কংগ্রেস নেতা স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি। নিজের সম্পাদিত ইংরেজি পত্রিকা 'বেঙ্গলি'-তে তিনি লিখেছিলেন, 'সরকারের সঙ্গে আমাদের মতানৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু শত্রুর সামনে সেইসব ঝগড়া, মতানৈক্য ভুলে মহান সাম্রাজ্যকে রক্ষায় যা কিছু আছে, তাই দিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের কর্তব্য।'

সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির বই থেকেই উদ্ধৃত করে দক্ষিণ এশিয়ার সমর-ইতিহাস বিশেষজ্ঞ অশোক নাথ লিখছেন, 'আমার ভাষণগুলোর মূল বিষয় ছিল, যে আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ভাবছেন, তার একটা মূল অঙ্গ হল আত্ম-সুরক্ষা। আমরা যদি রাজকীয় নাগরিকত্বের দাবি তুলি, তাহলে তার ভার ও দায়িত্বগুলোও আমাদের নিতে হবে। এই সময়ের সবথেকে গুরুদায়িত্ব হল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করা।'

সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল 'বেঙ্গলি রেজিমেন্ট কমিটি'। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য তরুণ আর যুবকদের উদ্বুদ্ধ যেমন করছিল এই কমিটি, তেমনই ব্রিটীশ সরকারের কাছে আবেদনও জানাচ্ছিল যাতে বাঙালিদের নিয়ে সেনাবাহিনীর একটা রেজিমেন্ট তৈরি হয়। ওই কমিটির মাথায় রাখা হয়েছিল বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাবকে। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি নিজে, ঢাকার নবাব-বাহাদুর সৈয়দ নবাব আলি চৌধুরী, সরলা দেবী ও শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক। ক্রমাগত দাবি উঠতে থাকায় অনুমতি পাওয়া গেল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাঙালী সৈন্যদের স্মরণে কলকাতায় স্মৃতিস্তম্ভ— বিবিসি বাংলা

অধ্যাপক অশোক নাথ লিখছেন, '১৯১৬ সালের ৭ অাগস্ট বাঙালি সেনাদের নিয়ে দুটি কোম্পানি তৈরির অনুমতি দেওয়া হল। এটিকে বলা হল 'বেঙ্গলি ডাবল কোম্পানি'। মাথায় রাখা হল লেফটেন্যান্ট এস জি টেলরকে। এছাড়াও ছয়জন ভারতীয় অফিসার, যাদের ভাইসরয়েজ [গর্ভনর জেনারেল বা বড়লাট] কমিশনড অফিসার এবং ২১৮ জন সদস্য নিয়ে তৈরি হল এই বেঙ্গলি ডাবল কোম্পানি।'

'এর মধ্যে দিয়ে বাঙালিরা দুটো দিকে সফল হল। প্রথমত, ব্রিটীশ সাম্রাজ্যের অন্যান্য দেশ, যেমন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা কানাডা যেমন আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পেয়েছে, ভারতকেও সেরকমটা দেওয়া হোক, এই দাবি যেমন জোরালোভাবে পেশ করা যাবে। দ্বিতীয়ত, বাঙালিরা লড়াকু জাতি নয়, এই তকমাটা মুছে ফেলা যাবে। তরুণ আর যুবকদের মধ্যে উৎসাহ এতটাই তৈরি হয়েছিল যুদ্ধে দেওয়ার জন্য, যাতে অন্যান্য পেশায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি আয় ছেড়ে দিয়েই তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে এগিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়ে একজন সেপাইয়ের মাসিক বেতন ছিল ১১ টাকা। বেতন কম হওয়ার কারণে পরিবারের যে ক্ষতি হবে, সেটা পুষিয়ে দিতে সমাজের বিশিষ্টজনেরা চাঁদা তুলে যুদ্ধে যাওয়া ওই যুবকদের পরিবারের হাতে তুলে দিতেন', লিখেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুইডিশ ইতিহাসবিদ অশোক নাথ।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, 'এই বাহিনী পরিচিত ছিল 'বাঙালি পল্টন' নামে। ১৯১৬ সালের ৩০ অগাস্ট থেকে বাহিনীতে ভর্তি নেওয়া শুরু হয় কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে। 'বেঙ্গলি ডাবল কোম্পানি'তে ভর্তি হওয়া প্রথম দশজন ১৯১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের জন্য রওনা হন পাঞ্জাব প্রদেশের নওশেরাতে। এরপরে দফায় দফায় সৈনিকদের নওশেরায় পাঠানো হতে থাকে। মাস চারেকের প্রশিক্ষণের পরে ১৯১৭ সালের জানুয়ারীতে দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ নিতে এই ডাবল কোম্পানি করাচি যায়।'

ততদিনে বাহিনীতে যোগ দিয়েছে আরও নতুন সদস্য। ব্রিটিশ সরকার তখন সিদ্ধান্ত নিল ডাবল কোম্পানি থেকে এই বাহিনীকে পুরোদস্তুর রেজিমেন্টে উন্নীত করা প্রয়োজন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯১৭ সালের ১ জুলাই করাচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৈরি হল ৪৯ নম্বর পদাতিক বাহিনী - ফর্টিনাইনথ বেঙ্গলিজ। কম্যান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পেলেন ১২৬ নম্বর বালুচিস্তান ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট থেকে আসা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এল ব্যারেট। সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হলেন মেজর ভি ভি ভি স্যান্ডিফোর্ড।

বালোচরা চিরকালই যোদ্ধার জাত। সেই তাদের পরিচালনার ভার থেকে সরিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ব্যারেটকে বাঙালি রেজিমেন্টের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ব্যারেট যে বাঙালিদের ওপরে কতটা খেপে থাকতেন, সেটা বোঝা যায় ১৯১৭ সালের শেষ দিকের একটা ঘটনা থেকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনে বেঙ্গল ল্যান্সারস— বিবিসি বাংলা

এই 'বাঙালি পল্টন' মেসেপটেমিয়ার যুদ্ধাঙ্গনে পৌঁছায় ১৯১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। তাদের সেখানে যদিও সরাসরি যুদ্ধের কাজে লাগানো হয়নি। তারা মূলত গ্যারিসন ডিউটি করত বা মিলিটারি পুলিশ হিসেবে প্রহরার কাজ করানো হত তাদের। মেসোপটেমিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক মাস পরে, ডিসেম্বরে, ফর্টিনাইন্থ বেঙ্গলি রেজিমেন্ট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মেসোপটেমিয়ায় ব্রিটিশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, জেনারেল স্যার উইলিয়াম মার্শাল।

নিজের স্মৃতিকথা, 'মেময়ার্স অব ফোর ফ্রন্টস'-এ জেনারেল মার্শাল লিখছেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই আমি ওই ইউনিট পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আমাকে স্বাগত জানালেন লেফটেনান্ট কর্নেল ব্যারেট। পুরো বাহিনীটা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন তিনি। ছড়ানো ছিটনো কয়েকটা স্কোয়াড ছিল - কোনওটা ছোট, কোনওটা বড়। প্রথম স্কোয়াডের কাছে পৌঁছতেই লেফটেন্যান্ট ব্যারেট ঘোষণা করেছিলেন, ওটা হচ্ছে 'মিজলস [হাম রোগ] স্কোয়াড'। দ্বিতীয় স্কোয়াডটাকে পরিচয় করালেন 'হুপিং কাফ [হুপিং কাশি] স্কোয়াড' বলে, তৃতীয়টা ছিল 'স্কারলেট ফিভার স্কোয়াড'। সবগুলো স্কোয়াডের নামই তিনি দিয়েছিলেন নানা পরিচিত রোগের নামে। একজন পরিচিত বাঙালি রাজনীতিবিদের ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তিনি ওই রেজিমেন্টের একজন সিনিয়ার ভারতীয় অফিসার ছিলেন।'

স্কোয়াডগুলিকে নানা রোগের নামে নাম দেওয়ার থেকেই আন্দাজ করা যায় বাঙালি পল্টনের ওপরে কতটা ক্ষোভ ছিল কম্যান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট ব্যারেটের। যদিও, এটা ঘটনা, যে বাঙালি ওই সেনাদের অনেকেই নানা রোগব্যাধিতে ভুগতেন। মধ্যপ্রাচ্যের জলহাওয়া আর কঠোর জীবন অনেকেরই সহ্য হয়নি। রোগে ভুগে মৃত্যু হত মাঝে মাঝেই। যেমন ব্রিটেনের ন্যাশানাল আর্কাইভে রাখা 'ওয়ার ডায়েরি' নম্বর ডব্লিউও ৯৫/৫০২০/৫ -এ বাগদাদ থেকে পাঠানো একটি বার্তায় ২৭ ডিসেম্বর, ১৯১৭ তে লেখা হয়েছিল, 'একজন ভারতীয় সৈন্য সেরিব্রো-স্পাইনাল ম্যানেঞ্জাইটিস রোগে ভুগে বাগদাদের আইসোলেশন হাসপাতালে মারা গেছেন।'

ওইরকমই আরেকটি ওয়ার ডায়েরিতে, ১৯১৮ সালের ১০ জুলাই লেখা রয়েছে, 'মহামান্য কমান্ডার ইন চিফের আদেশক্রমে নিম্নলিখিত ভারতীয় অফিসারকে তার কমিশন্ড পদত্যাগ করা অনুমতি দেওয়া হচ্ছে ১৯ ডিসেম্বর তারিখ থেকে। অফিসারের নাম, জমাদার কে হাবিবুল্লা (ঢাকার নবাব)।' তিনি পদ ছেড়ে দেওয়ার আগেই অবশ্য যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা হয়ে যায়।

ঢাকার নবাবই শুধু নয়, বাঙালি পল্টন বা বেঙ্গলি রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন সেই সময়ের অনেক উচ্চবিত্ত বংশের সন্তানরাই। ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে প্রথম আইএফএ শিল্ড জেতা কলকাতার মোহনবাগান দলের সচিব ছিলেন যে শৈলেন্দ্রনাথ বসু, তিনি বেঙ্গলি রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন সুবেদার মেজর হিসাবে। তার পরেই বাহিনীতে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন কুমার অধিক্রম মজুমদার, যিনি কলকাতা হাইকোর্টের একজন নামজাদা উকিল ছিলেন।

ঢাকার নবাব ছাড়াও সেখানকার প্রথিতযশা ব্যবসায়ী রণদা প্রসাদ সাহাও যোগ দিয়েছিলেন এই রেজিমেন্টে। ঘটনাচক্রে রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেকে ১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তানী বাহিনী অপহরণ করে আরও বহু বুদ্ধিজীবির সঙ্গেই।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সে ব্রিটিশ-ভারতীয় সৈন্য— বিবিসি বাংলা

এই বেঙ্গলি রেজিমেন্টই ব্রিটিশ বাহিনীর একমাত্র ইউনিট ছিল, যেখানে ধর্ম, জাতপাত, এসব নির্বিশেষে শুধু বাঙালী বলেই সদস্যদের নেওয়া হয়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার সমর ইতিহাস বিশেষজ্ঞ অশোক নাথ লিখছেন, 'ফর্টিনাইন্থ তৈরি করাই একটা অনন্য পরীক্ষা ছিল। এটাই ছিল প্রথম সম্পূর্ণভাবে বাঙালি রেজিমেন্ট। শিক্ষিত, শহুরে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের সন্তানরা এই রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিল। এবং বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা হত না, হিন্দু-মুসলমান সকলেই একসঙ্গে থাকতেন। অন্যান্য রেজিমেন্টগুলিতে যেমন মূলত অশিক্ষিত, গ্রামীন কৃষক শ্রেণির মধ্যে থেকে বাহিনীর সদস্যদের ভর্তি করা হত, তার থেকে এখানেই তফাৎ ছিল বেঙ্গলি রেজিমেন্টের।'

তবে বাহিনীতে যে 'হিন্দু ভদ্রলোক'দেরই প্রাধান্য ছিল, সেটাও উল্লেখ করছেন অশোক নাথ। তার মতে, বাঙালি মুসলমানরা যদিও এই রেজিমেন্টের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিলেন, তবে তারা ছিলেন সংখ্যায় কম। এর একটা কারণ হল, খিলাফৎ আন্দোলনের প্রভাব। ইসলামের খিলাফৎ এবং অটোমান সাম্রাজ্য রক্ষা করার একটা মানসিকতা ছিল অনেক মুসলমানের মধ্যে। সেজন্যই সম্ভবত তারা বেশি সংখ্যায় এই বাঙালি বাহিনীতে যোগ দেননি।

আবার যে হিন্দুরা বেঙ্গলি রেজিমেন্টের সদস্য ছিলেন, তাদের মধ্যেও অশান্তি আর গণ্ডগোল লেগেই থাকত। এরকমই একটা অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছিয়েছিল ১৯১৮ সালের ৯ জুন। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে রাখা ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস বলছে, বসরা শহরের দক্ষিণে সেই সময়ে অবস্থানরত বেঙ্গলি রেজিমেন্টের তিনজন ভারতীয় অফিসার গুলিবিদ্ধ হন। ওই তিনজন - সুবেদার মেজর শৈলেন্দ্রনাথ বসু, জমাদার আর এল মুখার্জি ও সুবেদার এ কে মিত্র তাদের তাঁবুতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে মারা যান এ কে মিত্র। একজন নায়েক ও একজন সেপাহীকে গ্রেপ্তার করা হয় গুলি চালানোর জন্য।

কোর্ট অফ এনকোয়ারিতে প্রমাণিত হয় যে ভারতীয় অফিসারেরা তাদের অধীনে থাকা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। সেই রাগেই গুলি চালিয়েছে ওই দুজন। তদন্তকারীরা আরও একজন ভারতীয় অফিসারকে সন্দেহ করেছিলেন গুলি চালনায় যুক্ত থাকার ব্যাপারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নি। গ্রেপ্তার হওয়া দু'জন দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

তবে পুরো ঘটনাটিকে কিছুটা চেপে যাওয়া হয়েছিল। পত্রপত্রিকাগুলোতেও বিশেষ কিছু ছাপা হয়নি এ ব্যাপারে। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও অবশ্য বেঙ্গলি রেজিমেন্ট আরও বেশ কিছুদিন থেকে গিয়েছিল মেসোপটেমিয়াতেই। তাদের প্রহরার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু পরের বছর, ১৯১৯ এর মাঝামাঝি কুর্দিস্তানের এক স্থানীয় নেতা, শেখ মাহমুদ আল বার্জিঞ্ঝি তার প্রদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন। কাছাকাছি থাকা বেঙ্গলি রেজিমেন্টকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই একবারই বাঙালি পল্টন সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল। তবে তারপরে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাম্মিনাহর বিমান ঘাঁটি পাহারা দেওয়ার জন্য। ১৯২০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বেঙ্গলি রেজিমেন্ট সেই দায়িত্ব পালন করেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের শেষে বাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা করছে ব্রিটীশ সরকার। যেসব ইউনিটকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছিল, অথবা যাদের সম্বন্ধে খুব ভাল রিপোর্ট ছিল না, সেইসব রেজিমেন্টগুলোকেই প্রথমে তুলে দেওয়া হতে থাকে। ১৯২০ সালের ১০ অাগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ নিয়ে এক প্রশ্ন করা হয়। লর্ড অ্যাম্পটহিল সরকারের কাছে জানতে চান, বেঙ্গলি রেজিমেন্ট কি তুলে দেওয়া হয়েছে? ভারত সরকার কি তাদের যুদ্ধকালীন পারদর্শীতায় সন্তুষ্ট?

জবাব দিয়েছিলেন এক বাঙালিই - লর্ড সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিনহা, যিনি পরে ব্যারণ হয়েছিলেন। 'যেভাবে যুদ্ধের সময়ে তৈরি হওয়া অনেক সেনা ইউনিটকে অতিরিক্ত বলে তুলে দেওয়া হচ্ছে, ফর্টিনাইন্থ বেঙ্গলিকে সেইভাবেই তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও একটা অংশকে এখনও টিঁকিয়ে রাখা হচ্ছে। মেসোপটেমিয়ায় যুদ্ধের সময়ে এই রেজিমেন্টের ব্যাপারে ভালো রিপোর্ট আসেনি,' বলেছিলেন লর্ড সিনহা।

যুদ্ধের বেশ কিছু বছর পরে, কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক উল্টো দিকে কলেজ স্কয়ারে গড়ে তোলা হয় একটি শ্বেত পাথরের স্মৃতি সৌধ। সৌধটির নিচে একদিকে খোদাই করে লেখা আছে, 'বেঙ্গলি রেজিমেন্টের সেই সব সদস্যদের স্মৃতিতে, যারা ঈশ্বর, রাজা এবং দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন ১৯১৪ থেকে ১৮র বিশ্বযুদ্ধে।' বাকি তিন দিকে খোদাই করা আছে ৪৯ জন সৈনিক ও অফিসারের নাম, কবে মারা গেছেন আর বাংলার কোনো জেলা থেকে তারা এসেছিলেন। এর মধ্যে যেমন আছে বর্ধমান, মেদিনীপুর, ২৪ পরগণা, নদীয়া বা কলকাতা, তেমনই রয়েছে বগুরা, যশোর, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ফরিদপুর, পাবনার নাম। রয়েছে ত্রিপুরার নামও।

এই সৌধটি ছাড়াও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আরও দুটি স্মৃতি সৌধ রয়েছে। সবথেকে পরিচিতি এবং দৃশ্যমানটি আছে কলকাতা ময়দানে, যেটির নাম 'গ্লোরিয়াস ডেড সেনোটাফ' আর অন্যটি যুদ্ধের সময়ে নৌবাহিনীতে কর্মরত যেসব দেশীয় নাবিক বা লস্কর মারা গিয়েছিলেন, তাদের স্মৃতিতে 'লস্কর মেমোরিয়াল'।

বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির শতবর্ষে রোববার বাঙালি পল্টন স্মৃতি সৌধ পরিষ্কার করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা ফুল-মালা দিয়েছেন। কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময়েই সেটি চূড়ান্ত অবহেলায় পড়ে থাকে। বিশেষ কেউ জানেনও না এই স্মৃতিসৌধটি কিসের বা কী তার তাৎপর্য। সূত্র: বিবিসি বাংলা