বাংলাদেশ

এবার গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮

এবার গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য

  বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এবার দুই পুলিশ সদস্য।

তারা হলেন রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বুধবার নারায়ণগঞ্জের একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখায় তাদের।

১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিল্লালকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া কনস্টেবল আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মাদক ব্যবসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কয়েকজনের সংশ্নিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, 'সিআইডির তদন্তাধীন একটি মামলায় মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট থাকার তথ্য পাওয়ায় বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন অপরাধীকে 'অপরাধী' হিসেবেই দেখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেফতারের পরপরই সাসপেন্ড করা হয়েছে তাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, 'অপরাধ করলে কারও পরিচয় মুখ্য নয়। তাকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব আমরা।'

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রূপালী আবাসিক এলাকার প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল ও সাবিনা আক্তার রুনুকে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায় বিল্লাল, আসাদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম বেরিয়ে এসেছে।

সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন। আরিফ সেখানকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশের এসআই বিল্লাল, এএসআই রুবেলের মুন্সীগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় আরিফ ও তার স্ত্রী রুনুর সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়। সেখানে তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন করতেন, ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন পরে।

২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন আরিফ। এরপর কারা হেফাজতে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ওই সময় প্রায়ই হাসপাতালে দেখতে যেতেন বিল্লাল। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিল্লাল রুনুকে জানান, ইয়াবার বড় পার্টি আছে। ৫ লাখ টাকা জোগাড় করলেই কাজ নেওয়া সম্ভব। রুনুকে তিনি আরও জানান, ওই দিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি পার্টি ইয়াবা নিয়ে আসবে। সাইনবোর্ড এলাকায় রুনুর জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।

ওই দিন বিকেলে রুনুকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলেন এসআই বিল্লাল। এ মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী শফি ইসলাম ওরফে শফিকের সঙ্গে বিল্লালের যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঢাকা, নারায়ণঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮-১০ জন চালকের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

এসব চালকের মধ্যে রয়েছেন- লোকমান, রহিম, মান্নান, সিদ্দিক, রাজ্জাক, হুমায়ুন ও সোহাগ। এই গ্রুপের প্রধানের নাম ইলিয়াছ। ৬ মার্চ ইলিয়াস তার বিশ্বস্ত সহযোগী ছোটনকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা নেওয়ার জন্য চকরিয়ায় নিউমার্কেটের সামনে আসতে বলেন। ওই দিন রাত ৯টার দিকে ইলিয়াছসহ চারজন মাইক্রোবাসে নিউমার্কেটে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মুখোশ পরা ছিলেন। এরপর ছোটনের কাছে ইয়াবার একটি ব্যাগ দেন ইলিয়াছ। ওই সময় তাকে জানানো হয়, রুনু নামে একজন তার সঙ্গে ইয়াবার জন্য যোগাযোগ করবেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে এসআই বিল্লাল ও কনস্টেবল আসাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায় পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। যারা বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জঙ্গিরা নতুন কৌশলে


আরও খবর

বাংলাদেশ
জঙ্গিরা নতুন কৌশলে

রিমান্ডে আসাদুল্লাহর তথ্য : বদলে ফেলা হয়েছে পুরনো ছক, প্রতিষ্ঠানে হামলার টার্গেট * পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র হত্যা মিশনে ব্যবহার * রিক্রুটমেন্টে ফের মাদ্রাসাছাত্রদের অগ্রাধিকার

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ

পুরনো সব কৌশল আমূল বদলে নতুনভাবে সংগঠন গোছাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম (পূর্বের আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি)। টার্গেট করার ক্ষেত্রেও দীর্ঘ দিনের ছক বদলানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। আগে যেখানে টার্গেট ছিল ব্যক্তি; এখন সেখানে জঙ্গিদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হামলা। গ্রেফতার এড়াতে কোনো মেস বা বাসাবাড়িতে একসঙ্গে দু'জনের বেশি অবস্থান করছে না তারা। সংগঠনের নতুন সদস্য রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে মাদ্রাসাছাত্রদের।

রাজধানীর কলাবাগানে চাঞ্চল্যকর জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া দুর্ধর্ষ জঙ্গি আসাদুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। সংশ্নিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজেদের ভেঙে পড়া নেটওয়ার্ক জোড়াতালি দেওয়ার নতুন এই কৌশলে বা তাদের নিজেদের ভাষায় 'দ্বিতীয় ধাপে' নিয়ে আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে এগোতে চাইছে জঙ্গিরা।

এ ব্যাপারে সিটিটিসির ডিসি মুহিবুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, জঙ্গিদের নতুন নতুন কৌশল থাকলেও পুলিশ পাল্টা কৌশল নিয়ে তাদের প্রতিরোধের সক্ষমতা রাখে। নিবিড় তদারকির কারণে উগ্রপন্থিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারছে না। অনলাইনে মনিটরিংয়ের জন্যও রয়েছে পৃথক টিম।

১০ বছরের বেশি সময় ধরে জঙ্গি কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছেন, এমন এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, আনসার আল ইসলাম এখন তাদের সংগঠনের জন্য নতুনভাবে রিক্রুট করছে অনলাইনে দাওয়াতের মাধ্যমে। দলভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কেউ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তার পরীক্ষা নেওয়া হয় অনলাইনেই। 'হিজরত'ও করানো হয় একই প্রক্রিয়ায়। এ পর্যায় সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে রিক্রুট করা ব্যক্তি উগ্রপন্থি হিসেবে সংগঠনের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করার উপযোগী হয়ে ওঠে। ২০১৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আসাদুল্লাহ ১৫ জনকে আনসার আল ইসলামে রিক্রুট করেছে। টার্গেট ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার প্রশিক্ষণও তাদের দিয়েছে আসাদুল্লাহ। তাদের ভাষায়, এটি 'আসকারি' ট্রেনিং।

গুলশানে ২০১৬ সালে হলি আর্টিসানে হামলার আগে-পরে তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তখন পুরনো জেএমবি, নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামে রিক্রুট করা হতো দেশে-বিদেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা মেধাবী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কারিকুলামের ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে। হঠাৎ আবার রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে মাদ্রাসাছাত্রদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণ সম্পর্কে আসাদুল্লাহ জানায়, অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সঙ্গেই পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ 'আলগা' থাকে। অনেকে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে না। তাই দলে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ দিয়েই দ্রুত সংগঠনের কাজে লাগানো যায়।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরেই আনসার আল ইসলামের সদস্যরা ছোট ছোট সেলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। এদের প্রত্যেক সদস্যেরই একাধিক ছদ্মনাম রয়েছে। একেকটি সেলে ৪-৮ জন সদস্য থাকতে পারে। এর আগে তারা কোনো মেস বা বাসায় একত্রিত হয়ে বসবাস করলেও এখন আর কোনো বাসায় দুইজনের বেশি অবস্থান করছে না। যদিও সাংগঠনিক কাজের জন্য তাদের সেলভিত্তিক পরিচয় রয়েছে।

সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা ছদ্মবেশে নানা ধরনের পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। আসাদুল্লাহ দীর্ঘ দিন মোবাইল ফোনের কভার বিক্রি করেছে। তার সহযোগীদের কেউ সাইকেল-রিকশার মেকানিক, কেউ ঝালমুড়ি ও মধু বিক্রেতা, কেউ আবার রিকশাচালক সেজেছে। কেউ আনসার আল ইসলামে যোগ দিলে তাকে সংগঠন থেকে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর কেউ পরিবার নিয়ে বসবাস করলে তাকে দেওয়া হয় আট হাজার টাকা। সদস্যদের মাসিক চাঁদা ছাড়াও দেশি-বিদেশি বেশ কিছু ডোনার রয়েছে আনসার আল ইসলামের। সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে এখনও প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিতরণ করার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

জঙ্গি আসাদুল্লাহ ২০১৫ সালে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শহীদুল্লাহর হাত ধরে আনসার আল ইসলামের সদস্য হয়। বর্তমানে পলাতক শহীদুল্লাহ পড়াশোনা করত যশোর পলিটেকনিকের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। আসাদুল্লাহ একই প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিল। ধরা পড়ার আগে চার বছর আসাদুল্লাহ পালিয়ে ছিল। ২০১৭ সালে সে এক সহযোগী জঙ্গির বোনকে বিয়ে করে। সর্বশেষ টঙ্গী স্টেশন রোডের ভাড়া বাসায় তিন মাস বয়সী সন্তান ও স্ত্রীসহ বসবাস করছিল আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রশিক্ষক আসাদুল্লাহ। তার সঙ্গে সংগঠনের শীর্ষ নেতা মেজর (বরখাস্ত) জিয়ার যোগাযোগও ছিল। বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারি জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার।

আসাদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মদনপুর এলাকায়। তার বাবা এমদাদুল হক চুয়াডাঙ্গার মাধবপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রুকন ছিলেন। আসাদুল্লাহর ছয় ভাইয়ের সবাই শিবিরের সাথী। তার দুই বোনের বিয়ে হয়েছে শিবির নেতাদের সঙ্গে। তার ভাই শিবিরের সাথী খলিলকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি উত্তর বাড্ডার সাতারকুলে পুলিশ পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকীর ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় আনসার আল ইসলাম। একই বছর রাজধানীর কলাবাগানে চাঞ্চল্যকর জুলহাজ-তনয় হত্যা মিশনে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ওই অস্ত্র ব্যবহার করে জঙ্গিরা। ঘটনার সময় পুলিশের ওই অস্ত্র থেকে এক রাউন্ড গুলি করে এবিটির সদস্যরা। অস্ত্রটি পরে আসাদুল্লাহর হেফাজতে ছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আসাদুল্লাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গি থেকে সে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

আসাদুল্লাহর বাবা এমদাদুল হক সমকালকে বলেন, ২০১৪ সালে যশোর থেকে আসাদুল্লাহ ফোন করে। তখন সে একবারে চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। বলেছিল, তার কোনো খোঁজ নেওয়ার দরকার নেই। আসাদুল্লাহ শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল। পরে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তবে এসব তাদের জানা ছিল না। বাড়ি ছাড়ার পর তার খোঁজ চেয়ে জিডিও করেননি তিনি।

পুলিশ জানায়, আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যের শুরা টিম রয়েছে। এরই মধ্যে এই টিমের দু'জন ধরা পড়েছে। তারা হলো- শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জোবায়ের ও মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সায়মন। অন্য চার শুরা সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। দলটির করা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক একটি টার্গেট লিস্ট সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

সাবেক এবিটির তিন সদস্যের একটি অপারেশনাল 'কোর কমিটি' রয়েছে, যেটির প্রধান ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় চাকরিচ্যুত পলাতক মেজর জিয়া। ব্লগার রাজীব, অভিজিৎ, প্রকাশক দীপন, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, নীলাদ্রী, জবি ছাত্র নাজিমুদ্দিন, জুলহাজ-তনয় খুন ও মিরপুরে স্কুল শিক্ষক হত্যাচেষ্টাসহ বেশ কিছু ঘটনায় জড়িত ছিল এবিটি। বিভিন্ন সময় রাজধানীর সাতারকুল, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এবিটির আস্তানায় অভিযান চালালেও গ্রেফতার করা যায়নি শীর্ষ নেতা জিয়াকে। যদিও কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ নানা আলামত জব্দ করা হয়। এখন জিয়াকে গ্রেফতারই বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১১ জুন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের পূর্ব কাকালদী এলাকায় লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যায় জড়িত ছিল আনসার আল ইসলাম। ওই অপারেশনে প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আনসার আল ইসলাম ও পুরনো জেএমবির সদস্যরা অংশ নেয়।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তি হত্যার টার্গেট থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি আনসার আল ইসলাম। তবে তারা মনে করছে, এ ধরনের অপারেশন করতে গিয়ে তাদের সংগঠন বেশি 'ক্ষতিগ্রস্ত' হয়ে কম 'লাভবান' হয়েছে। তাই তারা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হামলার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় যে কোনো জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নসাৎ করে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। দেশে আপাতত বড় ধরনের হামলা করার সক্ষমতা উগ্রপন্থিদের নেই বলে বিশ্বাস সংশ্নিষ্ট সবার।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ইউজিসি :পিতা নিয়োগকর্তা চাকরিপ্রার্থী কন্যা!


আরও খবর

বাংলাদেশ
ইউজিসি :পিতা নিয়োগকর্তা চাকরিপ্রার্থী কন্যা!

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাব্বির নেওয়াজ

নিয়োগ নিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি)। সেখানে ছয়টি পদে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নিয়োগ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য কমিশনের সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ; আর অন্যতম প্রার্থী তারই কন্যা সাদিয়া হোসেন সিনথিয়া। মেয়েকে নিয়োগ দিতে তিনি এরই মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অন্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ খালেদ এ পরীক্ষার আয়োজন, কক্ষ পরিদর্শন, সম্মানী বণ্টন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও খাতা দেখার মতো স্পর্শকাতর কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন। অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, খাতা দেখা ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে ছিলেন না। গত সোমবার এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ পেয়েছে। পরীক্ষায় সচিবের মেয়ে সাদিয়া হোসেন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি বুধবার।

ইউজিসি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছয়টি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিতে গত জুন মাসে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালকের চারটি, প্রটোকল অফিসারের একটি ও সহকারী প্রটোকল অফিসারের একটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আড়াই হাজার আবেদন জমা পড়ে। ইউজিসি কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ২০৪ জনের প্রবেশপত্র ইস্যু করে। তাদের মধ্যে সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালকের চারটি পদেই আবেদন জমা পড়ে এক হাজার ৫৬ জনের।

গত ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। সেদিন ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষে ৮০ জন করে প্রার্থী বসানো হয়েছে। সর্বমোট ২৩টি কক্ষে ১ হাজার ২০৪ জনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেখা যায়, নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে ইউজিসি সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ কক্ষ পরিদর্শন করছেন।

সহকারী পরিচালক, সহকারী সচিব (প্রটোকল) ও সহকারী প্রটোকল অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষার ফল সোমবার ইউজিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এতে সহকারী পরিচালক পদে ইউজিসি সচিবের মেয়ে সাদিয়া হোসেন সিনথিয়াসহ ১৮ জন, সহকারী সচিব (প্রটোকল) পদে পাঁচজন এবং সহকারী প্রটোকল অফিসার পদে তিনজন উত্তীর্ণ হন। ইউজিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের 'কম্পিউটার এপ্টিচিউড টেস্ট' হবে আগামী ২২ জানুয়ারি। পরদিন ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অফিসে নিয়োগের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। উত্তীর্ণদের ইন্টারভিউ কার্ড তাদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।

একাধিক নিয়োগপ্রার্থী সমকালকে বলেন, নিজের মেয়ে প্রার্থী হওয়ায় ইউজিসি সচিবের নৈতিকভাবে উচিত ছিল, শুরু থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন থেকে সরে যাওয়া। কিন্তু তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছেন। আড়াই হাজার প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২০৪ জনকে লিখিত পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়। অন্যদের প্রবেশপত্রই ইস্যু করা হয়নি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় দৈনিকের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সমকালকে জানান, তার স্ত্রীও সহকারী পরিচালক পদে আবেদন করেছিলেন। ঠুনকো অজুহাতে তার প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি। এই সাংবাদিক জানান, তার স্ত্রী একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। তার প্রতিষ্ঠানের ফরোয়ার্ডিং পত্র চাওয়া হয়েছিল। অথচ সরকারি নিয়োগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফরোয়ার্ডিং কখনও প্রযোজ্য নয়। তা ছাড়া প্রবেশ পদে (এন্ট্রি পোস্ট) সেটি লাগেও না।

ইউজিসির একটি সূত্র জানায়, সচিবের কন্যা নিয়োগপ্রার্থী হওয়ায় এবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। চতুরতার সঙ্গে শুধু রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়। অথচ অতীতে সবসময় উত্তীর্ণদের নাম ও রোল প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানায়, এই লিখিত পরীক্ষার সপ্তাহখানেক আগে সচিব খালেদ প্রভাব খাটিয়ে তার কন্যা সিনথিয়াকে ইউজিসির আধা কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি পাইয়ে দেন। ২১ ডিসেম্বর লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার পর তিনি ইউজিসি থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া পরিচালক খন্দকার হামিদুর রহমানের ছেলের সঙ্গে তার এ মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়েতে ইউজিসির চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. শাহ নওয়াজ আলী এবারের এই নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক। ইউজিসির অন্য সদস্যবৃন্দ, সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ ও পরিচালক সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া কমিটির সদস্য। কমিটির সদস্য সচিব হলেন ইউজিসির প্রশাসন বিভাগের উপসচিব ফজলুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, এর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। নিয়োগের পুরো বিষয়টি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শাহ নওয়াজ আলী দেখছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ নওয়াজ আলী বলেন, কমিশনের সচিবের কন্যা আবেদন করেছেন ও লিখিত পরীক্ষায় টিকেছেন। সচিব হিসেবে নৈতিকভাবে তার সন্তানকে এখানে আবেদন করানো সঠিক হয়নি বলেই মনে করি। এটি বিব্রতকর। সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি এতে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বাংলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার কন্যা যোগ্য হলে সব জায়গাতেই তার চাকরি হবে। তিনি বলেন, নিয়োগের খাতা দেখা ও অন্য বিষয়ের কাজ দায়িত্ব নিয়ে করেছি। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তারপরও বলব, এই পদে থেকে তার (সচিব) এখানে সন্তানকে আবেদন করানোই উচিত হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ সমকালকে জানান, তার কন্যা আবেদন করেছেন। লিখিত পরীক্ষায়ও টিকেছেন। এর সবই সত্যি। তবে তিনি নিয়োগের খাতা দেখা, প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ গোপনীয় কোনো কাজেই ছিলেন না। তিনি শুধু পরীক্ষা ও হল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, তার কন্যা আরও একবার ইউজিসিতে আবেদন করেছিলেন। সেবারও তার চাকরি দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হলো না, তার কোনো ব্যাখ্যাও কেউ তাকে দিতে পারেনি।

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ইউজিসি সচিব বলেন, ২২ বছর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর আমি কি এটুকু পেতে পারি না? আমার কন্যা তো আর অযোগ্য নয়! তিনি বলেন, আমি ভীষণ হতাশ! আই ফিল ডিপ্রাইভড। সমালোচনার ভয়ে আমার কন্যাকে চাকরি দেওয়া না হলে আমিও এবার দেখব, আমাদের কি কেউ নেই?

পরের
খবর

সুবর্ণচরের তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে 'অন্যভাবে' এসেছে: কাজী রিয়াজুল


আরও খবর

বাংলাদেশ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক— ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, সুবর্ণচরের ঘটনায় কমিশন থেকে যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, 'সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী যে-ই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে— এই কথাটি আমরা মিডিয়ার কাছে বলেছিলাম। সবার বোঝার স্বার্থে আমরা পুরো প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সুবর্ণচরের তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে অন্যভাবে এসেছে। মেসেজটাকে যেভাবে নেওয়া হয়েছে, সেটা কিন্তু আমাদের মেসেজ ছিল না।'

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, 'মানবাধিকার কমিশনের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি-না। কমিশন এটাই তদন্ত করেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অভিযোগপত্র পাঠিয়ে দিতে বলেছি। আমরা তো সেখানে হাত দিতে পারব না। নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপার, যেমন কে কাকে ভোট দিয়েছে, কে কোন দলের লোক, সেটা তারা দেখবে। সেটা তো আমাদের তদন্ত রিপোর্টে আসতে পারে না এবং আমরা এ ধরনের কোনো কথাও বলিনি।'

তিনি আরও বলেন, 'সুবর্ণচরের ঘটনা যেদিন পত্রিকায় আসে, সেটা আমি দেখার সঙ্গে সঙ্গে একটি কমিটি গঠন করলাম। কমিটি করে আমরা তাদের পাঠিয়ে দিলাম ঘটনাস্থলে। ২ জানুয়ারি তারা সারাদিন সেখানে থেকে তদন্ত করেছে। তারা ফিরে আসার পর ৩ তারিখে রিপোর্ট তৈরি করে। মাঝখানে দু'দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় ৬ তারিখে আমরা রিপোর্ট দেখে ওয়েবসাইটে দিয়ে দিই। তদন্ত কমিটি যখন কোনো রিপোর্ট করে, আমরা সেটা ওয়েবসাইটেই দিয়ে দিই। কারণ আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে যে, কারা কী বলছে তা জানার, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কী আছে তা জানার অধিকার আছে মানুষের।'

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা বলেছিলাম, ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রচণ্ডভাবে আঘাত করা হয়েছে। সুতরাং তার সঙ্গে যারাই এ রকম করেছে, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আমরাই একমাত্র সংস্থা যারা প্রথমেই ওই জায়গায় গিয়েছিলাম।'

সংশ্লিষ্ট খবর