বাংলাদেশ

এবার গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮

এবার গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য

  বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এবার দুই পুলিশ সদস্য।

তারা হলেন রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বুধবার নারায়ণগঞ্জের একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখায় তাদের।

১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিল্লালকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া কনস্টেবল আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মাদক ব্যবসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কয়েকজনের সংশ্নিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, 'সিআইডির তদন্তাধীন একটি মামলায় মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট থাকার তথ্য পাওয়ায় বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন অপরাধীকে 'অপরাধী' হিসেবেই দেখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেফতারের পরপরই সাসপেন্ড করা হয়েছে তাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, 'অপরাধ করলে কারও পরিচয় মুখ্য নয়। তাকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব আমরা।'

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রূপালী আবাসিক এলাকার প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল ও সাবিনা আক্তার রুনুকে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায় বিল্লাল, আসাদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম বেরিয়ে এসেছে।

সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন। আরিফ সেখানকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশের এসআই বিল্লাল, এএসআই রুবেলের মুন্সীগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় আরিফ ও তার স্ত্রী রুনুর সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়। সেখানে তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন করতেন, ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন পরে।

২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন আরিফ। এরপর কারা হেফাজতে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ওই সময় প্রায়ই হাসপাতালে দেখতে যেতেন বিল্লাল। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিল্লাল রুনুকে জানান, ইয়াবার বড় পার্টি আছে। ৫ লাখ টাকা জোগাড় করলেই কাজ নেওয়া সম্ভব। রুনুকে তিনি আরও জানান, ওই দিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি পার্টি ইয়াবা নিয়ে আসবে। সাইনবোর্ড এলাকায় রুনুর জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।

ওই দিন বিকেলে রুনুকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলেন এসআই বিল্লাল। এ মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী শফি ইসলাম ওরফে শফিকের সঙ্গে বিল্লালের যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঢাকা, নারায়ণঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮-১০ জন চালকের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

এসব চালকের মধ্যে রয়েছেন- লোকমান, রহিম, মান্নান, সিদ্দিক, রাজ্জাক, হুমায়ুন ও সোহাগ। এই গ্রুপের প্রধানের নাম ইলিয়াছ। ৬ মার্চ ইলিয়াস তার বিশ্বস্ত সহযোগী ছোটনকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা নেওয়ার জন্য চকরিয়ায় নিউমার্কেটের সামনে আসতে বলেন। ওই দিন রাত ৯টার দিকে ইলিয়াছসহ চারজন মাইক্রোবাসে নিউমার্কেটে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মুখোশ পরা ছিলেন। এরপর ছোটনের কাছে ইয়াবার একটি ব্যাগ দেন ইলিয়াছ। ওই সময় তাকে জানানো হয়, রুনু নামে একজন তার সঙ্গে ইয়াবার জন্য যোগাযোগ করবেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে এসআই বিল্লাল ও কনস্টেবল আসাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায় পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। যারা বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু রোববার


আরও খবর

বাংলাদেশ

  সমকাল প্রতিবেদক

দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে রোববার।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদের বৈঠক শুরুর কথা রয়েছে।

দশম সংসদের সর্বশেষ এ অধিবেশনে সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবস হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৪ অক্টোবর সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। সংবিধানে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা আছে; কিন্তু নির্বাচনের আগের ৯০ দিনের ক্ষেত্রে এর বাধ্যবাধকতা নেই।

এদিকে সংসদের ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সাপেক্ষে এ অধিবেশন উঠতে পারে বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনের শুরুর দিনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ, প্রশ্নোত্তর, ৭১ বিধির নোটিশ নিষ্পত্তি, কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদের শুরুর দিনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া এদিন ছয়টি উত্থাপন ও একটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। যে বিলগুলো উত্থাপন হবে সেগুলো হলো- বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বিল, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিল, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিল, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল ও সরকারি চাকরি বিল। আর পাস হবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল। এর আগে চলতি সংসদের ২২তম অধিবেশন গত ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রুখতে হবে: মোস্তাফা জব্বার


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সরব হতে হবে। অপপ্রচার রুখতে হবে।

শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত 'নির্বাচনকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এতে আরও বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ড. নুজহাত চৌধুরী এবং বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ এ আরাফাত।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণ সমাজের ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তার করে আছে। এ কারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে তরুণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হবে নানা পক্ষ থেকে। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো মহল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালানো হয়, তাহলে তা সচেতন সবাইকে মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি কিংবা আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাতে দেখা গেছে। তাদের অপপ্রচার মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কোনো বিকল্প নেই।

ড. নুজহাত চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির অপপ্রচার রুখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে।

মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, তথ্য আদান-প্রদান সহজ করেছে। আবার এই মাধ্যম অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্র হিসেবেও অসাধুরা ব্যবহার করছে। নির্বাচন ঘিরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি যেন এই মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার না করতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

পরের
খবর

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে শিক্ষকদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চলমান গতি বজায় থাকে এবং আমাদের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো শেষ করা যায়। কারণ, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন (এফবিইউটিএ) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে হয়তো নির্বাচিত হয়ে আসবো। আর যদি নাও দেয় তাহলেও কোন আফসোস থাকবে না কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা শুরু করেছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে তা আপনারাই নিশ্চিত করবেন, সেটাই আমি চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার একটা লক্ষ্যই ছিল টানা দুই মেয়াদে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারে তবে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হবে যেমনটি নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারপরেও সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং নির্বাচনে সকলেই যেমন ভোট চায়, আমরাও ভোট চাই। যাতে করে আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে উন্নয়নের ধারাটি পিছিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচনের কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

৩২শ’ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করায় তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এখন যে পাচ্ছে, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা যে বেড়েছে সেটা ধরে রাখতে হবে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে হবে- আমি আশাকরি হয়তো তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের আবার সেবা করার সুযোগ দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

এফবিইউটিএ’র সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবায়তুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ সমুহ নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি প্রামাণ্য চিত্রও পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে চাই কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একটি শিক্ষিত জাতি ছাড়া কোন দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হতে পারে না।

তার সরকার এজন্য শিক্ষাকে সব চেয়ে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষক, আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর। আপনাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা।’

‘অবশ্যই আপনারা এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, কাজেই আপনাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত রয়েছে, জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার কারিগর সোনার ছেলে-মেয়েদেরকে আপনারাই গড়ে তুলবেন।’

শেখ হাসিনা শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের কল্যাণে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারলে তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণের ইঙ্গিত দেন এবং তাঁদের দাবিগুলো লিখিত আকারে তার কাছে দেয়ারও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান স্মরণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নেরও তাগিদ দেন।

তিনি এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বেশি না বাড়িয়ে বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যাতে বিভিন্ন এলাকার ছেলে-মেয়েরা ঘরে বসেই লেখাপড়া করতে পারে, সে পরিকল্পনা তার সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখায় তার সরকারের অঙ্গীকারের উল্লেখ করে তার সরকারের গড়ে তোলা সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সেটা করতে হলে শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন জনপ্রতিনিধি,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলে মিলেই করতে হবে, সরকারের একার পক্ষে সম্ভব হবে না, সমগ্র সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

তার সরকারের কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ১৪/১৫ লাখ ছেলে-মেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় সম্পৃক্ত। তারাও যেন উচ্চশিক্ষা পায়, তারাও যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মত মানুষ হয়ে নিজেদেরকে কর্মপেযোগী করে গড়ে তুলতে পাওে, সেটাও আমরা ব্যবস্থা করেছি।

আগামীর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনরকম সাম্পদায়িকতা যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে।’

সংশ্লিষ্ট খবর