বাংলাদেশ

দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮

দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না: প্রধান বিচারপতি

  সমকাল প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে দেওয়া আদেশের সংক্ষিপ্ত কপি চেয়ে তার আইনজীবীদের করা আবেদন নাকচ করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে যে আদেশ দিয়েছেন, তার সংক্ষিপ্ত কপি চেয়ে মৌখিক আবেদনের সময় খালেদার আইনজীবীদের বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা দলবল দেখে আদেশ দেই না।'

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে বুধবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী মৌখিকভাবে আদালতকে বলেন, 'জামিননামা দাখিল করতে চাই। তাই আদেশের সংক্ষিপ্ত কপি চাচ্ছি।'

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, 'আদেশ দেওয়ার পর তার সংক্ষিপ্ত কপি দেওয়ার নজির নেই।'

মোহাম্মদ আলী বলেন, 'আদেশের পর একমুহূর্তও কাউকে আটকে রাখা হলে তা হবে বেআইনি। এ জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি।' এ সময় আদালত বলেন, 'আপনি যা বলেছেন, তা আমাদের আইনে নেই।' তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, 'কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য যে কোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' এ পর্যায়ে আদালত বলেন, 'আপনারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেয়ে যাবেন।'

এ সময় বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, 'আপিল বিভাগে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার নজির নেই।' এ পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার আইনজীব বলেন, 'নজির নেই, কিন্তু আপনারা চাইলে দিতে পারেন।' আদালত বলেন, 'হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক? আপনার আবেদন নাকচ করা হলো।' এ পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, 'আমি একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি।' এ সময় মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'একি বললেন? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না।'

বেঞ্চের অপর এক বিচারপতি এ আইনজীবীকে উদ্দেশ করে এ সময় বলেন, 'আপনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটি গুরুতর আপত্তিজনক। আপনি আমাদের চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে, আদালতে আপনারা একজন আইনজীবী। কোনো দলীয় লোক নন।'

মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে আরেক বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, 'আপনার আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তর্ক করছেন কেন?'

তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, 'এটা ঠিক হয়নি।' এ সময় তার সঙ্গে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, কায়সার কামাল ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা সোমা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ওইদিন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় রাখা হয়েছে তাকে।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পরদিন ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।

সব আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

দেশের কোলে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ


আরও খবর

বাংলাদেশ

   সমকাল প্রতিবেদক

অনন্ত যাত্রার পথে বাংলাদেশের কোলে ফিরেছেন কিংবদন্তি সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। স্বজন ও সহকর্মীরা মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন তার নিথর দেহ। বুধবার তাকে নেওয়া হবে তার জন্মস্থান সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রাম বানারীপাড়ায়। শোকার্ত সহকর্মী, সহযোদ্ধা, সুহৃদ ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বৃহস্পতিবার তিনি শেষ শয্যা নেবেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

সবাই আশাবাদী ছিলেন, মৃত্যুকে আরেকবার পরাজিত করে সুস্থ শরীরে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসবেন আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করা সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ার। ফিরে আসবেন তার প্রিয় সমকালে, তুলে নেবেন কলম। কিন্তু সবার দোয়া, শুভকামনা ও চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে মহাসিন্ধুর ওপারে পাড়ি জমান মুক্তিসংগ্রামী গোলাম সারওয়ার।

নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণ ঘটার পর গত ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি হলে ৭৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে গত ৩ আগস্ট নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে।

সেখান থেকে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে শেষবারের মতো দেশে ফেরেন সমকাল সম্পাদক। বিমানবন্দরে শোকার্ত সহকর্মী-স্বজনরা তার মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন। ৫৭ বছরের সুদীর্ঘ সাংবাদিকতায় বিপুল অর্জন, পরিণত বয়সে প্রয়াণ- তবু তার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছিলেন না সহকর্মীরা। অভিভাবকের ছায়া মাথার ওপর থেকে সরে যাওয়ার ব্যথা কাঁদায় সবাইকে।

প্রিয় সম্পাদকের মরদেহ গ্রহণ করেন সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক শাহ আলমগীর, উপসম্পাদক অজয় দাশ গুপ্ত, উপসম্পাদক আবু সাঈদ খান, নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, গোলাম সারওয়ারের ছোট ভাই বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, অনলাইন সম্পাদক গোতম বি মণ্ডল, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় পরিচালক ও সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক রমা প্রসাদ বাবু, সমকালের জিএম (সার্কুলেশন) মো. হারুনুর রশিদসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা প্রিয় সম্পাদকের মরদেহ নিয়ে যান তার উত্তরার বাসভবনে।

সিঙ্গাপুর থেকে গোলাম সারওয়ারের মরদেহের সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফেরেন স্ত্রী সালেহা সারওয়ার, কন্যা সুষমা নাইম রত্না, জামাতা মিয়া নাইম হাবিব, পুত্র গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জন ও গোলাম সাব্বির অঞ্জন।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গোলাম সারওয়ারের বাসায়। ১৯৭৭ সাল থেকে উত্তরায় বাস গোলাম সারওয়ারের। উত্তরা মডেল হাই স্কুল ও কলেজের সভাপতি ছিলেন তিনি। উত্তরায় নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্রতিবেশীরাও তাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন। শোকার্ত মানুষের হাহাকার ভাঙে মধ্যরাতের নীরবতা।

বাসভবন থেকে সমকাল সম্পাদকের মরদেহ নেওয়া হবে বারডেমের হিমঘরে। সেখান থেকে বুধবার দুপুর দেড়টায় হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নেওয়া হবে বরিশালের বানারীপাড়ায়। বড় সন্তান গোলাম সারওয়ারকে আদর করে তার মা ডাকতেন দুলাল বলে। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি প্রিয় দুলাল হয়েই আছেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটায় বানারীপাড়া সরকারি মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে গোলাম সারওয়ারের প্রথম জানাজা হবে। একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধা গোলাম সারওয়ার মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। জানাজা শেষে তাকে আবারও ঢাকায় আনা হবে। বুধবার রাতেও মরদেহ রাখা হবে বারডেমের হিমঘরে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নিয়ে আসা হবে তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। এখানে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমকাল সম্পাদকের মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখান থেকে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছেন তার এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। সংবাদকর্মীরা সেখানে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

বিভিন্ন মহলের শোক : বরেণ্য সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক ও দুঃখ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, ভূমি সচিব আবদুল জলিল, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, পুলিশের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিত উদ্দিন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের এআইজি সহেলী ফেরদৌস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) একাংশের চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোস্তফা, অপরাংশের চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু, মহাসচিব আবদুল হাই মণ্ডল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন, এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা স্টেট কলেজ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আবদুল্লাহ, ল' রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হাসান জাবেদ, ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জি এম ফয়সাল আলম, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, কুয়েত এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি), ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আলী রেজা ইফতেখার, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও রুহুল আমিন, লেবার পার্টি ছাত্র মিশনের সভাপতি সালমান খান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. মিলন, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ জেহাদী, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন, শিক্ষার মান সংরক্ষণ ও নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মিয়া আবদুল্লাহ ওয়াজেদ, বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি গোলাম মর্তুজা, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবির দুলু, অনলাইন প্রেস ইউনিটির চেয়ারম্যান প্রত্যয় জসীম, মহাসচিব নান্টু লাল দাস, বুক সেন্টার ময়মনসিংহের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম পান্না, নিউ চাঁদনী পরিবহনের প্রোপাইটার আবদুস সালাম, পদ্মা পরিবহনের পরিচালক রুবেল সেপাই প্রমুখ।

শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ সোসাইটি, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, চট্টগ্রাম হকার্স সমিতি, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব, সিলেট-৪ আসনের এমপি ইমরান আহমদ, সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি তাপস দাস পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নোবেল, সিলেট প্রেস ক্লাব, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশেন সিলেট শাখা, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট কমিশন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব, সুহৃদ সমাবেশ সিলেট জেলা শাখা, গোয়াইনঘাট প্রেস ক্লাব, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব, রাবি সাংবাদিক সমিতি, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশাল-২ আসনের এমপি তালুকদার মো. ইউনুস, সদর আসনের এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, জেলা সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়ন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জেলা শাখা, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন, সোনারগাঁ প্রেস ক্লাব, বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন, সংসদীয় মহিলা আসন ৩১৩-এ (ঝালকাঠি, বরগুনা) এমপি নাসিমা ফেরদৌসী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি, বরগুনা প্রেস ক্লাব, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, জেলা প্রিন্ট মিডিয়া ফোরাম, জেলা মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, পাথরঘাটা প্রেস ক্লাব, উপজেলা প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিক ফোরাম, নেত্রকোনা মদন প্রেস ক্লাব, কেন্দুয়া প্রেস ক্লাব, ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার, শৈলকূপা প্রেস ক্লাব, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাব, ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি আলহাজ মোসলেম উদ্দিন অ্যাডভোকেট, ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বজলুল হক হারুন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান মনির, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ, ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঝালকাঠি শাখা, জেলা বিএমএসএফ, ঝালকাঠি হকার্স সমিতি, নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ আসনের এমপি হাফিজুর রহমান, জেলা প্রেস ক্লাব, কালিয়া প্রেস ক্লাব, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর প্রেস ক্লাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি ফয়জুর রহমান বাদল, জেলা প্রেস ক্লাব, নবীনগর প্রেস ক্লাব, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব, সিলেটের কানাইঘাট প্রেস ক্লাব, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি ড. মো. আবদুশ শহীদ, কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাব, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি, কমলগঞ্জ সুহৃদ সমাবেশ, বড়লেখা প্রেস ক্লাব, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আমজাদ হোসেন মিলন, তাড়াশ প্রেস ক্লাব, উল্লাপাড়া প্রেস ক্লাব, ফরিদপুর প্রেস ক্লাব, সুহৃদ সমাবেশ ফরিদপুর শাখা, ফরিদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি, জেলা সংবাদপত্র হকার সমিতি, সদরপুর প্রেস ক্লাব, বোয়ালমারী প্রেস ক্লাব, বোয়ালমারী সুহৃদ সমাবেশ, রুরাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বোয়ালমারী, পিরোজপুর প্রেস ক্লাব, ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাব, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন পিরোজপুর শাখা, বগুড়া জেলা নাগরিক কমিটি, আদমদীঘি প্রেস ক্লাব, উপজেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি, নীলফামারীর ডোমার প্রেস ক্লাব, সুহৃদ সমাবেশ গাইবান্ধা, জামালপুর প্রেস ক্লাব, সুহৃদ সমাবেশ জামালপুর প্রমুখ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'নক্ষত্র হয়ে তিনি পথ দেখাবেন'


আরও খবর

বাংলাদেশ

   সমকাল প্রতিবেদক

মহাসিন্ধুর ওপার থেকে পথ দেখাবেন গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিকতার বাতিঘর। মৃত্যু অমোঘ, ৭৫ বছরে চলে যাওয়াও অকাল প্রয়াণ নয়। কিন্তু একজন গোলাম সারওয়ারের চলে যাওয়া মানে দেশ ও জাতির পরম ক্ষতি। সাংবাদিক সমাজের এই শিক্ষকের প্রস্থানের শূন্যতা তাই অপূরণীয়। বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার অন্যতম কারিগরও তিনি। এই নিপুণ কারিগরের প্রায় ছয় দশকের কর্মজীবন নিগূঢ় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল। পথ দেখাবেন তিনি নক্ষত্র হয়ে।

কিংবদন্তি সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে খোলা শোক বইয়ে তার সম্পর্কে এসব কথা লিখেছেন বিশিষ্টজন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমকাল কার্যালয়ে শোক বই খোলা থাকবে। সমকালের শোকার্ত কর্মীরা ধারণ করেছেন কালো ব্যাজ।

বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান জাতি। অভিভাবক হারানোর ব্যথায় ব্যথিত সাংবাদিক সমাজ। শোকে নির্বাক সমকাল পরিবারের সদস্যরা। সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুসংবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সরকারের মন্ত্রীসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সহযোদ্ধা, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসেন সমকাল কার্যালয়ে।

তাদের বেদনার্ত স্মৃতিচারণে উঠে আসে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু গোলাম সারওয়ারের ৫৭ বছরের পেশাগত জীবনের বিস্তৃত অধ্যায়ের জানা-অজানা অনেক কথা। শোক বইতে তারা ব্যক্ত করেন একান্ত কাছের মানুষটিকে হারানোর অব্যক্ত বেদনাবিধুর অনুভূতি।

মুক্তি সংগ্রামী গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে শুধু সাংবাদিক সমাজ শোকাভিভূত নয়, শোকার্ত একাত্তরের সহযোদ্ধারাও। দেশের বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার অন্যতম পথিকৃৎকে হারিয়ে বেদনাহত বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ। সমাজের অগ্রসর উজ্জ্বলতম ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে শোকাহত সর্বস্তরের মানুষ।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ লিখেছেন, 'প্রিয় সারওয়ার ভাই আর নেই- এ কথা ভাবতেই পারি না। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।' নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি। শিক্ষাসহ সমাজের বহু কল্যাণকর কাজে তিনি অবদান রেখেছেন। তার স্নেহ ও ভালোবাসা আমার জন্য ছিল বড় সম্পদ। জাতি একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারাল।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক লিখেছেন, বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংবাদিককে। সংবাদপত্র হারিয়েছে আলোকবর্তিকা। জনগণ হারিয়েছে বাতিঘর। সমকাল সম্পাদকের পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন খায়রুল হক।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, গোলাম সারওয়ার ছিলেন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার উজ্জ্বল বাতিঘর। তিনি একজন বরেণ্য সাংবাদিক ও সম্পাদকই শুধু ছিলেন না, ছিলেন বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক লিখেছেন, 'প্রিয় সারওয়ার ভাই আপনি এমন সময়ে চলে গেলেন, যখন আপনার থাকার প্রয়োজন ছিল সংবাদজগতের স্বার্থে, নিপীড়িত মানুষের স্বার্থে, দেশ ও জাতির স্বার্থে।'

প্রকাশিতব্য দৈনিক জাগরণ সম্পাদক আবেদ খান বলেন, 'গোলাম সারওয়ার শুধু সাংবাদিকতার বন্ধু বা সহকর্মী ছিলেন না, ব্যক্তিজীবনে একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করতাম। দীর্ঘ এ বন্ধুত্বে কখনও আন্তরিকতার কমতি ছিল না। তার অনুপস্থিতিতে দেশের সচেতন মানুষ হারাল একজন মুক্তিযোদ্ধা সমাজশিল্পীকে, সাহিত্যজগৎ হারাল অনবদ্য কথাশিল্পীকে। তার এ শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।'

সাংবাদিক নেতা একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বার্তা সম্পাদক, সম্পাদক পদে বহু লোক আসবে-যাবে, কিন্তু একজন গোলাম সারওয়ার আর আসবেন না। এ ক্রান্তিকালে তার বিদায় গণমাধ্যমের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। গোলাম সারওয়ার ছিলেন শিশুসুলভ সরল মানুষ। তিনি শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, সংবাদের নেশায় ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। তার এ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো তরুণ সাংবাদিকরা।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু লিখেছেন, 'আমার সম্পাদক। আমাদের সম্পাদক। বাংলাদেশের অর্ধশতাব্দীর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ইতিহাসে সাংবাদিকতার চড়াই-উৎরাই পথের অন্যতম বলিষ্ঠ পথিক। অগ্রপথিক।'

ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে গণমাধ্যম এতিম হয়ে গেল। ব্যক্তিগতভাবে হারালাম পরম এক অভিভাবককে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল।

পিআইবিতে শোক বই
প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানটিও খুলেছে শোক বই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী তাতে লিখেছেন, সাংবাদিক সমাজ একজন পথিকৃৎ, শিক্ষক, সৎ-সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীককে হারিয়ে শোকাভিভূত। তাকে অনুসরণ, অনুকরণ এবং স্মরণের মধ্য দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করি।

জিটিভি ও সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা লিখেছেন, 'আপনি সক্রিয় থেকেছেন, ভালো সংবাদ খুঁজেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকেছেন। আপনি ভালো সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা ছিলেন, প্রিয় সারওয়ার ভাই।'

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত লিখেছেন, 'সবার প্রিয় সারওয়ার ভাই আমাদের ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন, এটা কখনই ভাবিনি। এ রকম একজন আপাদমস্তক সাংবাদিক, যার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে।'

ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশিস সৈকত লিখেছেন, 'গোলাম সারওয়ার শুধু একটি নাম নয়, সংবাদপত্রের ইতিহাস। তার বিদায় শূন্যতা হয়ে থাকবে সংবাদপত্র জগতে। তিনি ছিলেন সাংবাদিকদের অভিভাবক, গণমাধ্যমের অভিভাবক। বিদায় সারওয়ার ভাই। আপনার দেখানো পথ ধরে হাঁটার চেষ্টা করব।'

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মুভিমোগল হিসেবে পরিচিত সিনেমা প্রযোজক এ কে এম জাহাঙ্গীর খান শোক বইতে লিখেছেন, সারওয়ার ভাই নেই এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এই তো দু'সপ্তাহ আগে কথা হলো, আমি অসুস্থ ছিলাম। তিনি দেখতে আসলেন। 'জাহাঙ্গীর ভাই টেনশন নিবেন না'- এই বলে আমাকে সান্ত্বনা দিলেন। অথচ আজ তিনি শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন। আমাদের দুই পরিবারের মাঝে ছিল দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক। আমৃত্যু তিনি এ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

সমকালের প্রয়াত সম্পাদকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ ছাড়াও লিখেছেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিল সভাপতি কে এম শহীদুল হক, চলচ্চিত্র পরিচালক ফখরুল আরেফিন, দৈনিক যুগান্তরের নগর সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গোলাম সারওয়ারের মতো ব্যক্তিত্ব বিরল: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা


আরও খবর

বাংলাদেশ

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা- ফাইল ছবি

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সমকাল সম্পাদক ও সাংবাদিকতার কিংবদন্তি গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

মঙ্গলবার এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, গোলাম সারওয়ার একজন অমায়িক, বিনয়ী ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। সমসাময়িক প্রতিটি বিষয়, ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়েও তিনি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে তার জানা, বোঝা এবং জ্ঞান ছিল ব্যাপক বিস্তৃত। তার মতো একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক, উচ্চ নৈতিকতা বোধসম্পন্ন ব্যক্তি সত্যিই বিরল। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তি।

ঢাকায় দায়িত্বপালন করতে এসে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রথম যে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন গোলাম সারওয়ার।

ভারতীয় হাইকমিশনার গোলাম সারওয়ারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

সংশ্লিষ্ট খবর