বাংলাদেশ

দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮

দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না: প্রধান বিচারপতি

  সমকাল প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে দেওয়া আদেশের সংক্ষিপ্ত কপি চেয়ে তার আইনজীবীদের করা আবেদন নাকচ করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে যে আদেশ দিয়েছেন, তার সংক্ষিপ্ত কপি চেয়ে মৌখিক আবেদনের সময় খালেদার আইনজীবীদের বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা দলবল দেখে আদেশ দেই না।'

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে বুধবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী মৌখিকভাবে আদালতকে বলেন, 'জামিননামা দাখিল করতে চাই। তাই আদেশের সংক্ষিপ্ত কপি চাচ্ছি।'

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, 'আদেশ দেওয়ার পর তার সংক্ষিপ্ত কপি দেওয়ার নজির নেই।'

মোহাম্মদ আলী বলেন, 'আদেশের পর একমুহূর্তও কাউকে আটকে রাখা হলে তা হবে বেআইনি। এ জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি।' এ সময় আদালত বলেন, 'আপনি যা বলেছেন, তা আমাদের আইনে নেই।' তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, 'কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য যে কোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' এ পর্যায়ে আদালত বলেন, 'আপনারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেয়ে যাবেন।'

এ সময় বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, 'আপিল বিভাগে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার নজির নেই।' এ পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার আইনজীব বলেন, 'নজির নেই, কিন্তু আপনারা চাইলে দিতে পারেন।' আদালত বলেন, 'হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক? আপনার আবেদন নাকচ করা হলো।' এ পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, 'আমি একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি।' এ সময় মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'একি বললেন? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না।'

বেঞ্চের অপর এক বিচারপতি এ আইনজীবীকে উদ্দেশ করে এ সময় বলেন, 'আপনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটি গুরুতর আপত্তিজনক। আপনি আমাদের চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে, আদালতে আপনারা একজন আইনজীবী। কোনো দলীয় লোক নন।'

মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে আরেক বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, 'আপনার আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তর্ক করছেন কেন?'

তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, 'এটা ঠিক হয়নি।' এ সময় তার সঙ্গে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, কায়সার কামাল ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা সোমা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ওইদিন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় রাখা হয়েছে তাকে।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পরদিন ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।

সব আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আজ সম্মানসূচক ডি-লিট পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের আসানসোল শহরের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সমাবর্তন উৎসবের। আজ শনিবার সেই সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডি-লিট উপাধি।

দু’দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে যান। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ও বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতে শুক্রবার সকালে কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তিনিকেতনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষেই শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পরে তারা এই ‘বাংলাদেশ ভবনেই’ বৈঠকে বসেন। 

এরপর শেখ হাসিনা শুক্রবারা বিকেলেই কলকাতা ফেরেন। বিকেলে তিনি কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ঘুরে দেখেন।

কলকাতা থেকে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসানসোল যাবেন। সেখানে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তনে যোগ দেবেন এবং সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। এ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন।

আসানসোল থেকে কলকাতায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। জাদুঘর পরিদর্শন শেষে হোটেল তাজ বেঙ্গলে ফিরে আসবেন। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে এক ঘণ্টা দু'জনের একান্ত আলাপচারিতার জন্য রাখা হয়েছে। 

সূত্র আরও জানায়, শেষ মুহূর্তে শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। 

এদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের শুকনো মৌসুমে তিস্তার পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকগুলো ‘যদি’র ওপর নির্ভর করবে। যদিও বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর হিন্দুকে বলেছেন, তিস্তার পানি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, শীত বা শুকনো মৌসুমে এমনিতেই তিস্তায় পানিই থাকে না। এটা ঠিক পরিস্কার নয় যে, এ মৌসুমে কী উপায়ে বাংলাদেশকে পানি দেওয়া সম্ভব হবে।

শনিবার রাতে ঢাকা ফিরে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত আরও ৯


আরও খবর

বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' পাঁচজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দু'জন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, চাঁদপুরের কচুয়া ও পাবনা সদরে একজন করে নিহত হয়েছে। র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে নিহত হয়েছে একজন করে মোট দু'জন। এছাড়া দিনাজপুর ও বরগুনায় আরও দু'জন নিহত হয়েছে 'নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে'।

পুলিশ ও র‌্যাব বলছে, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। সমকালের অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

কুমিল্লা: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' দুই বাবুল ও আলমাস নামে দুইজন নিহত হয়েছে।

নিহত বাবুল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবড়ি এলাকার মালেকের ছেলে এবং আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে। এদের মধ্যে বাবুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল ও ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির জানান, শুক্রবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল ব্রাহ্মণপাড়ার বাগড়া রামচন্দপুর সড়কে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দিনাজপুর: বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' সাবদারুল (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া সদর উপজেলায় 'নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি'তে আরেক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত সাবদারুল বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নান্দাইল গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সদর উপজেলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি ক্যাম্প-১ এর অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা রাতে উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে মাদক পাচাররত একদল মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাবের ওপর হামলা চালালে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাবদারুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। 

ঘটনাস্থল থেকে থেকে দুই পোটলা গাজা, ৯৫ বোতল ফেনসিডিল, একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত সাবদারুল এলাকার চিহ্নিত একজন মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ৪০টি মামলা রয়েছে।

এদিকে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, ভোররাতে সদর উপজেলার রামসাগরের পশ্চিমপাড় এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে দিনাজপুর  হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনাস্থল থেকে ২শ' বোতল ফেনসিডিল, একটি হাসুয়া, ৪টি ককটেল, একটি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দু'পক্ষের গোলাগুলিতে এই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তারব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' মো. শাহজাজান (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের উত্তরবনগাঁও গ্রামে এ 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটে জানিয়ে পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসিসহ তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছে।

নিহত শাহজাহান উত্তরবনগাঁও গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম খান জানান, ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি ইউনিয়নের তেলুয়ারি মোড় এলাকার একদল মাদক ব্যাবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে— এমন খবরের ভিত্তিতে তিনি ও ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবির) ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবির একটি যৌথদল সেখানে অভিযানে যায়।

তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলি ছোড়ে। তখন পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলির এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে সেখানে শাহজাহানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, ১টি রামদা, ১টি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে।

চাঁদপুর: কচুয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' বাবলু (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে 'বন্দকুযুদ্ধের এই ঘটনা ঘটে জানিয়ে পুলিশ বলছে, বাবলু একজন মাদক ব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।

নিহত বাবলু বনরা গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে। তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে বাবলু গুলিবিদ্ধ হয়। পরে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

পাবনা: সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' আব্দুর রহমান নামে একজন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে পাবনা শহর সংলগ্ন মহেন্দ্রপুর এলাকায় 'বন্দুকযুদ্ধে'র এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, আব্দুর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত আব্দুর রহমান সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকার প্রয়াত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম জানান, শুক্রবার আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত ২টার দিকে পুলিশ তাকে নিয়ে মহেন্দ্রপুর এলাকায় মাদক উদ্ধারে যায়। সেখানে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আব্দুল রহমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশে তৈরি শাটারগান, তিন রাউন্ড গুলি, চার রাউন্ড গুলির খোসা ও ২০০ পিস ইয়াবা ও পাঁচ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

জয়পুরহাট: পাঁচবিবি উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' রিন্টু নামে একজন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার ভীমপুর গ্রামে একটি ইটভাটার পাশে 'বন্দুকযুদ্ধে'র এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব বলছে, রিন্টু এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের বিভিন্ন থানায় মাদক, চোরাচালান ও অপহরণের মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

নিহত রিন্টু উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি এক নলা বন্দুক, গুলি ও এক বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

জয়পুরহাট র‌্যাব-৫ ক্যাম্পের অধিনায়ক শামীম হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভীমপুর এলাকায় একটি ইট ভাটাতে মাদক কেনাবেচা চলছে— এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় রিন্টু। পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরগুনা: সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে 'গোলাগুলিতে' ছগির খান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার ভোররাতে উপজেরার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ছগিরের বিরুদ্ধে মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে।

নিহত ছগির উপজেলার ১নং বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের নিয়মিত টহল চলছিল। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে জাকিরতবক এলাকায় গিয়ে পুলিশ ছগিরের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলে ১টি পাইপগান, ৫ রাউন্ড গুলি, ১০০ পিস ইয়াবা ও কিছু নগদ টাকাও পাওয়া যায়।

ওসি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসায়ী মনির গ্রুপের সঙ্গে এই সংঘর্ষে ছগির নিহত হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই সব সমস্যার সমাধান করব


আরও খবর

বাংলাদেশ

শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই সব সমস্যার সমাধান করব

বাংলাদেশ-ভারত স্বার্থগত সংযোগ রয়েছে :মোদি, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার মতোই সম্পর্ক দুই দেশের :মমতা

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রক্তিম দাশ, শান্তিনিকেতন থেকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা থাকাটাই স্বাভাবিক। ভাইয়ে-ভাইয়েও সমস্যা থাকে। আন্তরিকতা থাকলে সে সব সমস্যা যে মেটানো সম্ভব, তা দু'দেশ বারবার প্রমাণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন করেছি। ২০১৫ সালে স্থলসীমানা চুক্তি সম্পাদিত হয়। ভারতের সংসদের সব সদস্যের সমর্থনে স্থলসীমানা বিলটি পাস হয়। ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দুই দেশ। এত উৎসবমুখর পরিবেশে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বে কোথাও ছিটমহল বিনিময় হয়নি। বন্ধুপ্রতিম দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনো সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই সমাধান করতে পারব।

গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত 'বাংলাদেশ ভবন' ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথভাবে উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে কলকাতা পৌঁছান।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্ব বিশ্বের কাছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি, উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। শেখ হাসিনা বক্তব্যের শুরুতেই মোদি ও মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শান্তিনিকেতন শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, আমাদেরও। রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ কবিতা বাংলাদেশের মাটিতে লেখা, তাই আমাদের অধিকার বেশি। এখানে এলে রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। আমাকে বিশ্বভারতী থেকে দেশিকোত্তম দেওয়া হয়েছিল, তাই নিজেকে বিশ্বভারতীর একজন বলেই আমি মনে করি। যদিও আমি এখানে পড়ার সুযোগ পাইনি।

এদিন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর রবীন্দ্রপ্রীতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া স্টিমারে যাওয়ার সময় ডেকে দাঁড়িয়ে কবিগুরুর কবিতা পড়তেন। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে।

স্থলসীমান্ত চুক্তিসহ একাধিক বিষয়ে ভারতের সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ভারতের সহযোগিতা চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, পারিপার্শ্বিকতা আমাদের আলাদা করে রাখলেও বাঙালিরা মনেপ্রাণে এক এবং অভিন্ন। অনেক সময় ক্ষুদ্র স্বার্থ আমাদের মনের মধ্যে দেয়াল তৈরি করে। আমরা ভুল পথে পরিচালিত হই। এই দেয়াল ভাঙতে হবে। মনের ভেতর অন্ধকার দানা বাঁধতে দেওয়া যাবে না। ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিতে পারলেই কেবল বৃহত্তর অর্জন সম্ভব। কবিগুরু বলেছেন- নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন, হবেই হবে।/যদি পণ করে থাকিস, সে পণ তোমার রবেই রবে।/ওরে মন হবেই হবে...। আমরা মানুষের জন্য কাজ করার পণ করেছি। সে পণ আমরা পূরণ করবই। এ জন্য অর্থনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক যোগাযোগও সুদৃঢ় করা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ভবন দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দুই দেশের জ্ঞানপিপাসুদের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হোক এই ভবন, এই প্রত্যাশা।

সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়- মোদি :এদিন বক্তব্যের শুরুতে বাংলায় কথা বলে উপস্থিত দর্শকদের চমকে দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, দু'দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক বাংলাদেশ ভবন। রমজান মাসে এটা খুশির উপহার। এটা আমাদের সেই সম্পর্ক, যা ইংরেজরা দেশভাগ করেও ভাঙতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে আপনারা যা সম্মান দেন, আমরাও সেই সম্মান দিই। একইভাবে আমি জানি আমাদের মতো আপনারা বিবেকানন্দ,গান্ধীজি ও নেতাজিকে সম্মান করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, যুদ্ধ ওপারে হলেও এর লড়াইয়ের প্রেরণার বীজ ছিল এপারে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যাচারিত হলে আমরাও ব্যথা পেয়েছি। সেদিন যুদ্ধ করা ভারতীয় সেনাদের যে সম্মান আপনার দিয়েছেন তা সারাবিশ্বে বিরল।

মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত শরিক। এখন সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। জল-রেল-সড়ক যোগাযোগ বাড়ছে। ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছি, আরও ১১০০ মেগাওয়াট দেব। দু'দেশ এবার মহাকাশ প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজ করবে। বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে তারাও পারে।

শেখ হাসিনার প্রশংসা করে মোদি বলেন, বাংলাদেশ সরকার যেভাবে দারিদ্র্য দূর করছে তা আমাদের জন্য প্রেরণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে যেখানে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন, তাতে ভারতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

মোদি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বন্ধুত্ব এবং স্বার্থগত সংযোগ দুটিই রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যথা পেলে ভারত ব্যথা পায়। একইভাবে বাংলাদেশও ভারতের আনন্দ-বেদনার অনুভূতি নিজের মতো করেই অনুভব করে। এটাই দুই ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশীর সম্পর্ক।

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন শেষে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক চলে। এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যু উঠে আসে বলে জানা যায়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্নিষ্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয় স্থান পায়।

বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন :গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে নেমে তিনি হেলিকপ্টারে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে যান।

????এর পাশাপাশি কলাইকুণ্ডা থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে শান্তিনিকেতনে এসে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দুই প্রধানমন্ত্রীকেই বিশ্বভারতীর হেলিপ্যাডে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন।

এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতীর আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ষায় ময়ূরের আনন্দ প্রকাশের অনুকরণে অঙ্কিত একটি আলপনা। দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চিত্রাবলির ৫ খণ্ডের একটি সেট, কাঁথা স্টিচের একটি শাড়ি, গীতাঞ্জলি ও পাঠভবনের শিশুদের তৈরি করা বিভিন্ন হাতের কাজের সামগ্রী। নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেওয়া হয় দক্ষিণ ভারতের হাসান জেলার হেলবিন্দু মন্দিরের ভাস্কর্যের আদলে তৈরি আলপনা চিত্র।

সমাবর্তন শেষ করেই শেখ হাসিনা, নরেন্দ্র মোদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা চলে আসেন বাংলাদেশ ভবন প্রাঙ্গণে। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা প্রস্তর ফলকের আবরণ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধন শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রস্তর ফলকের সামনে দাঁড়ান। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন নরেন্দ্র মোদির পাশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতাকে তার পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালে মমতা দৌড়ে এসে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ান।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ভবনের ভেতরে অডিটোরিয়ামে দু'দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধন অনুষ্ঠান।

এ সম্পর্ক চিরন্তন- মমতা :অনুষ্ঠানের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা দারুণ হয়েছে। আমার বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ছে। অনেক জল গড়িয়েছে, আরও গড়াবে আর তাতে দু'দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। রবীন্দ্র-নজরুলকে বাদ দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভাবতে পারে না। এটা একটা তীর্থস্থান হবে। বিশ্ব বাংলা কেন্দ্র হবে। আমরা নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর করেছি। কলকাতায় আপনারা সহযোগিতা করলে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি ভবন আমরা তৈরি করতে চাই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মতো বহমান। এ সম্পর্ক চিরন্তন, এর শেষ নেই।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সাক্ষাৎ : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আরও উন্নয়নে ভারতীয় বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগে, বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দিতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে উভয় দেশ লাভবান হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলের ম্যান্ডারিং কক্ষে সেখানকার ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে নদী খননে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সমর্থন কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির দেওয়া ভোজসভায় যোগ দেন। কলকাতার রাজভবনে এ ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়।