বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন বুধবার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন বুধবার

ফাইল ছবি

  রাজশাহী ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাজশাহী যাচ্ছেন। সফরসূচি অনুযায়ী,  বুধবার সকালে তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করবেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ক্যাডারদের মাঝে ট্রফি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার আবদুস সোবহান জানান, প্রধানমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। বিকেলে ঢাকায় ফিরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। মঙ্গলবার বিকেলেই আকাশপথে রাজশাহী পৌঁছেছেন আইজিপি। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আজ রাজধানীর যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন


আরও খবর

বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ও ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে।

ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে আয়োজিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে আজকের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সার্বজনীন রূপ দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সংবর্ধনা সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করে জনসমুদ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ ছাড়াও মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে যোগ দেবেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণসংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনযোগে ও পায়ে হেঁটে অসংখ্য নেতাকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণের আগমন ঘটবে। এ কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বেলা ১টা হতে অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর রাস্তা বন্ধ থাকবে।

এছাড়া প্রয়োজনে বাংলামোটর, কাকরাইল চার্চ, ইউবিএল, জিরো পয়েন্ট, গোলাপশাহ মাজার, চাঁনখারপুল, বকশীবাজার, পলাশী, নীলক্ষেত, কাঁটাবন ক্রসিং দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়মুখী সাধারণ গাড়িগুলোকে ডাইভারশান দেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অনুষ্ঠান উপলক্ষে মিরপুর থেকে যেসব নেতাকর্মী বাসে আসবেন তাদের গাড়ি মিরপুর রোড দিয়ে এসে নীলক্ষেত এলাকায় পার্ক করবেন। উত্তরা, মহাখালীর দিক দিয়ে যে সকল নেতাকর্মী বাসে আসবেন তাদের গাড়ি মগবাজার-কাকরাইল চার্চ-নাইটিংগেল-ইউবিএল-জিরো পয়েন্ট-হাইকোর্ট হয়ে দোয়েল চত্বরে নামিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়ামে পার্ক করতে হবে।

ফার্মগেট-সোনারগাঁও-শাহবাগ হয়ে যে সকল নেতাকর্মী বাসে আসবেন সে সকল গাড়ি টিএসসি রাইট টার্ন করে মল চত্বরে পার্ক করবেন। যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, বংশাল দিয়ে যারা আসবেন তাদের গাড়ি জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট হয়ে দোয়েল চত্বরে নামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়ামে পার্ক করবেন। লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর থেকে আগতদের গাড়ি পলাশী-নীলক্ষেত এলাকায় পার্ক করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরও ৩


আরও খবর

বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন ও দিনাজপুরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার ভোরে এসব ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত তিনজনই মাদক ব্যবসায়ী।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামসুদ্দিন শ্যাম (৩৮) নামে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫শ পিস ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভেড়ামারা বাকাপুলের কাছে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা’ ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, শামসুদ্দিন শ্যাম এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে ভেড়ামারা বাঁকাপুল চরদামুকদিয়া এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টিম সেখানে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলি শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় শ্যাম নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: পার্বতীপুরে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক বক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার ডোমখালী ইটভাটার পাশে এই ঘটনা ঘটে। 

নিহত রহিম পার্বতীপুর পৌর শহরের পুরাতন বাজার রেলগেট মহল্লার নুন্নবীর ছেলে। পুলিশ বলছে, আব্দুর রহিম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা আছে। 

পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে ডোমখালী ইটভাটার পাশে দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে সেখানে আব্দুর রহিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পার্বতীপুর উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:  চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি র‌্যাবের। তবে তার নাম এখনও জানা যায়নি।

র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার আবু খায়ের জানান, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় র‌্যাবের একটি দল। সুন্দরপুর এলাকায় পৌঁছলে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

তদন্তেরও পঙ্গুদশা


আরও খবর

বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনা মামলা

তদন্তেরও পঙ্গুদশা

আলোচিত কোনো মামলারই চার্জশিট হয়নি, ক্ষতিপূরণ পাননি কেউ,মামলা প্রত্যাহারে সমঝোতার চাপ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ ও বকুল আহমেদ

প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসারের খরচ বহন করে আসছিলেন ২৩ বছরের তরুণ রাসেল সরকার। হঠাৎ ঝড়ে তার পৃথিবী এলোমেলো হয়ে যায়। ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে রাসেলের প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয় গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসের চালক। গাড়ি থেকে নেমে কারণ জানতে চান রাসেল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাঁ পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেয় ওই বাসচালক। এরপর রাসেলকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কেটে ফেলা হয় বাঁ পা। পঙ্গু হয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় রয়েছেন রাসেল। তার পরিবারেও রাজ্যের চিন্তা। রাসেলের চিকিৎসা খরচ তার প্রতিষ্ঠান বহন করলেও দায়ী বাস কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এমনকি এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তও চলছে ঢিমেতালে। বলতে গেলে তদন্তেরও পঙ্গুদশা। শুধু রাসেলের ঘটনা নয়, সম্প্রতি রাজধানীতে বহুল আলোচিত সাতটি দুর্ঘটনার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। একটি মামলারও চার্জশিট হয়নি। সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কোনো ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মামলা প্রত্যাহারে চাপ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে সমঝোতার কথা। তাই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে নানা শঙ্কা। কোনো ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৭১ জন নিহত হয়েছেন। ৩৬৮ নারী, ১৬৮ শিশুসহ আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৫ জন। এ সময়ে সারাদেশের জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে ২ হাজার ৩৫৩টি।

সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীতে ঘটছে দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ৪ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিসির দোতলা বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ফুয়াদ (৩৫) নিহত হন। ২ জুলাই সকালে মিরপুরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ছাত্র সৈয়দ মাসুদ রানা প্রাণ হারান। ৭ জুলাই বিমানবন্দর এলাকায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী আল আমিন আজাদ (২২) নিহত হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার মামলার তদন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে কর্মকর্তাদের তাগাদা দেওয়া হয়। অনেক সময় এ-সংক্রান্ত মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদী কারও পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায় না। তখন ধরে নেওয়া হয়, হয়ত তাদের মধ্যে গোপন সমঝোতা হয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী শাহ্‌দীন মালিক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ২০ বছর ধরে ফৌজদারি মামলা করছেন ভুক্তভোগীরা। কেউ ক্ষতিপূরণের মামলা করছেন না। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে দুর্ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন। দু-একটি প্রমাণ হলেও তাতে চালক ও সহকারীর সাজা হয়, বাস মালিকের কিছু হয় না। দুর্ঘটনার জন্য মালিককে যদি মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগত তাহলে চালক নিয়োগ দেওয়ার আগে তিনি দশবার ভাবতেন।

মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, বাস মালিকদের পেছনে শক্তিশালী চক্র রয়েছে। চালকের ভুলে দুর্ঘটনা হলেও তাদের চাপে অনেক সময় তদন্ত সঠিকভাবে হয় না।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত-নিহত হলেও অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পরবর্তী 'পদক্ষেপ' দেখার অপেক্ষায় থাকে। বিশেষ করে উভয় পক্ষের মধ্যে কেউ প্রভাবশালী হলে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। সর্বশেষ এ ধরনের নজির দেখা যায় নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী ও কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিউলির গাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সেলিম বেপারী নামে একজন গাড়িচালক নিহত হওয়ার ঘটনায়। ১৯ জুন রাতে মহাখালী উড়াল সড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন সেলিম বেপারী। দুর্ঘটনার সময় এমপির ছেলে শাবাব চৌধুরী গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান। এমপি একরামুল করিম চৌধুরী শুরু থেকেই দাবি করেন দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে গাড়িতে ছিলেন না। পরে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিতে ২০ লাখ টাকায় এ ঘটনার সমঝোতা হয়। এমপির পক্ষ থেকে ২৪ জুন এ অর্থ সেলিম বেপারীর স্ত্রী জায়না বেগমের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিমাসে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি।

জানা যায়, রাজধানীতে সাধারণত যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এ লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বাস, ট্রাক ও পাঠাওয়ের চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের আচরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা হয়। এ ছাড়া নিজের ও গাড়ির ফিটনেস না থাকলে গাড়িতে উঠতে নিষেধ করা হয়েছে।

ট্রাফিকের উত্তর বিভাগের ডিসি প্রবীর কুমার রায় বলেন, সাধারণত যেসব কারণে দুর্ঘটনা হয় সে ব্যাপারে ছবিসহ বাসচালকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন টার্মিনালে তাদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

রাজীব মারা গেলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি :৩ এপ্রিল কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের বাসের প্রতিযোগিতায় হাত হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। রাজীবের খালা জাহানারা বেগম বলেন, পুলিশ এখনও চার্জশিট দাখিল না করায় আমরা হতাশ। ক্ষতিপূরণও মেলেনি। প্রথমে সবাই এগিয়ে এলেও এখন সবাই ভুলতে বসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার এসআই আফতাব আলী জানান, বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক খোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে দুই বাসের চালকের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পাল্লা দিতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে। চার্জশিট প্রস্তুতির কাজ চলছে।

এদিকে রাজীবের পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে ৪ এপ্রিল রিট করেন এক আইনজীবী। পরে রাজীবের পরিবারকে কেন এক কোটি টাকা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২২ মে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও হৃদয় হোসেন আবদুল্লাহকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আতিকুন্নেছার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে চাপ :২৪ মে আবদুল্লাহপুরে বিআরটিসির বাসের চাপায় আতিকুন্নেছা (৫০) নামে এক নারীর বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়। এ ঘটনায় তার পরিবার চালককে আসামি করে উত্তরা-পশ্চিম থানায় মামলা করে। সেই চালক এখনও গ্রেফতার হয়নি।

আতিকুন্নেছারা স্বামী রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা প্রত্যাহারে চালকের পরিবার ও সরকার দলীয় এক নেতা চাপ দিচ্ছেন। ৭ জুলাই মিরপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে বলেন, 'মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চালক গরিব মানুষ। মামলা করে লাভ কী।' মামলা প্রত্যাহার করতে রাজি নন রফিকুল। তিনি জানান, ইতিমধ্যে আতিকুন্নেছার চিকিৎসায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। ঘটনার পরের দিন হাসপাতালে রোগীকে দেখতে গেলেও পরে বিআরটিসির পক্ষ থেকে আর কেউ খোঁজ নেয়নি। আতিকুন্নেছার বাসা উত্তরায়। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গ্রেফতার হয়নি মঞ্জিল পরিবহনের চালক :হানিফ ফ্লাইওভারে ১৭ মে মঞ্জিল পরিবহন ও শ্রাবণ সুপার নামে দুটি যাত্রীবাহী বাসের প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী নাজিম উদ্দিন। ঘটনার পরপরই শ্রাবণ সুপার বাসের চালক ওহিদুল ও মঞ্জিল পরিবহনের হেলপার কামালকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করে নিহতের পরিবার। ঘটনার দায় স্বীকার করে ওহিদুল ও কামাল ৩০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার অপর আসামি মঞ্জিল পরিবহনের ওই বাসের চালক নবী এখনও গ্রেফতার হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কামাল হোসেন বলেন, নবীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এরপরই চার্জশিট প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে।

নিহত নাজিমের স্ত্রী সাবরিনা ইয়াসমিন জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ভাড়া বাসা ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে শ্যামপুরে বাবার বাসায় উঠেছেন। বড় মেয়ে নুসরাত জাহান মুন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান নূরের বয়স দুই বছর। গৃহিণী সাবরিনা বলেন, আয়ের কোনো উৎস নেই। কী করে বাকি জীবন চলবে বুঝতে পারছি না। তিনি আরও জানান, তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোটি টাকা কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে কারও কাছ থেকেই অর্থ সহায়তা পাইনি।

ধারা বদলালেও মেডিকেল সনদের জন্য আটকে আছে চার্জশিট :পঙ্গু হওয়া রাসেল সরকারের ঘটনায় ২৭৯ ও ৩৩৮/ক ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। রাসেলের ভাই আরিফ সরকার বাদী হয়ে গ্রিনলাইনের চালক কবির হোসেনকে আসামি করে মামলাটি করেন। শুরু থেকে বাদী পক্ষের অভিযোগ ছিল, তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গ্রিনলাইনের চালক ইচ্ছে করে ঠাণ্ডা মাথায় রাসেলের পায়ের ওপর গাড়ি তুলে পালিয়ে যাচ্ছিল। দু'জন প্রত্যক্ষদর্শী পিছু নিয়ে পুলিশের সহায়তায় গ্রিনলাইনের চালককে আটক করে। ওই ঘটনায় যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা 'হত্যাচেষ্টা'র শামিল বলে গণ্য। তাই শুরুতে যে ধারায় মামলা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা যায়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার ধারা সংযোজন করতে আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়। সেই আলোকে এ মামলায় এখন ৩২৬ ও ৩০৭ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

রাসেলের ভাই আরিফ সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত ভাইয়ের চিকিৎসায় ১৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। রাসেল যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত সেই পিআর এনার্জি ও পরিবারের সদস্যরা মিলে চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন। গ্রিনলাইন পরিবহন এক টাকাও দেয়নি। ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তারা এক প্রকার নিঃস্ব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই শাহিদ হাসান বলেন, ৩২৬ ধারা যুক্ত হওয়ায় আহতের চিকিৎসা সনদ ছাড়া চার্জশিট দেওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসা সনদ পেলেই চার্জশিট দেওয়া হবে।

নার্সের পায়ের ওপর বাসের চাকা :ঝুমুর আক্তার রাখি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নার্স হিসেবে কর্মরত। ১৪ জুলাই রাতে ডিউটি শেষে শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসায় ফেরার উদ্দেশে গুলিস্তানে যান। রাত সোয়া ৮টার দিকে গুলিস্তানে মহানগর নাট্য মঞ্চের পশ্চিম-উত্তর পাশে মালঞ্চ ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি পড়ে যান এবং ডান পায়ের ওপর দিয়ে বাসের চাকা চলে যায়। থেঁতলে যায় তার পায়ের পাতা। তিনি বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। ১৯ জুলাই অস্ত্রোপচার করে তার ডান পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসটির চালক শাহেদকে আসামি করে পরদিনই পল্টন থানায় মামলা করেন রেখার স্বামী সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে বাসের মালিকপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন থানার এসআই রহমত আলী বলেন, ১৫ জুলাই অভিযুক্ত চালক শাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাসটিও জব্দ আছে।

তিন মাসেও সুস্থ হননি আয়েশা :৫ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় দুই বাসের প্রতিযোগিতার মাঝখানে পড়ে গুরুতর আহত হন গৃহবধূ আয়েশা খাতুন (২৫)। তিনি বর্তমানে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসাধীন। হাঁটা-চলার মতো অবস্থা তার নেই। কোমরের নিচ থেকে দুই পা পর্যন্ত অবশ হয়ে আছে। তার স্বামী তানভির আহমেদ তাহের জানান, আরও একটি অপারেশন করা লাগবে। চিকিৎসার পেছনে তিন মাস ধরে তার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে বাস কর্তৃপক্ষকে রোগীর চিকিৎসার খরচ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। ঘটনার কয়েকদিন পরই বাসের চালক জামিনে বেরিয়ে গেছে। এমনকি মামলার চার্জশিটও দেওয়া হয়নি।

জাবির সাবেক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার নেই :১ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বসুমতি পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এসএম শাহরিয়ার সৌরভ ওরফে সেজান (২৮) নিহত হন। তিনি মিরপুর ডিওএইচএচের বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে দক্ষিণখানের আশকোনার উদ্দেশে বের হওয়ার পর দুর্ঘটনার শিকার হন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি সাহান হক বলেন, এ ঘটনায় মামলার তদন্ত চলছে। চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট দেওয়া হবে।