বাংলাদেশ

'ডেসটিনি-২০০০ কোম্পানি কেন বিলুপ্ত করা হবে না'

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

 'ডেসটিনি-২০০০ কোম্পানি কেন বিলুপ্ত করা হবে না'

  সমকাল প্রতিবেদক

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড কোম্পানি কেন বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে 'শোকজ নোটিশ' জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার নোটিশ জারির এই আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানিরও দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে ডেসটিনির পরিচালক লে. জে.এম হারুন-অর-রশীদসহ ৫ শেয়ার হোল্ডারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান খান ও মাইনুল ইসলাম। অন্যদিকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একেএম বদরুদ্দোজা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেস্বর রেজিস্টার্ড হওয়া কোম্পানিটি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোন বার্ষিক সাধারণ সভা করতে পারেনি। এ জন্য বিলম্ব মার্জনা করে সাধারণ সভার করার অনুমতি চেয়ে কোম্পানির পরিচালক লে. জে. এম হারুন-অর-রশীদসহ ৫ শেয়ার হোল্ডার হাইকোর্ট একটি আবেদন করেন।

আবেদনকারী অপর ৫ জন হলেন- কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো. জাকির হোসেন, বিপ্লব বিকাশ শীল। আবেদনে জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মসের রেজিস্টার ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডকে বিবাদী করা হয়।

মঙ্গলবার ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দেন।

আদেশের পর একেএম বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুসারে প্রতি ইংরেজী পঞ্জিকা বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হয়। কিন্ত হাইকোর্টে আবেদনকারী ছয়জনের মধ্যে ডেসটিনির সভাপতি ও সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে আছেন। জামিনের শর্ত অনুসারে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোম্পানীর কোন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।

তিনি জানান, এ ছাড়া সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে এবং অন্য চারজন পলাতক আছেন। এ জন্য পরিচালক ছাড়া এজিএমও করা সম্ভব হয়নি। শুনানিতে বিষয়টি নজরে আসার পর হাইকোর্ট কোম্পানিটি কেন বিলুপ্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ ইস্যু করেন।


সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সিন্ডিকেটের খপ্পরে ১৩৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প


আরও খবর

বাংলাদেশ
সিন্ডিকেটের খপ্পরে ১৩৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশ : ১৬ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাব্বির নেওয়াজ

নিম্নমানের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য অধিক মূল্যে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি একটি প্রকল্পই বন্ধ করে দেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তাদের কারণে টানা দুই মাস প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, মডেম, সাউন্ডবক্সসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার কথা।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রকল্পের নাম 'আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা প্রচলন' (২য় পর্যায়)। এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শিক্ষা খাতের এ প্রকল্পের সুফলও পাচ্ছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা খাতের সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে পণ্য বিক্রি করতে না পারার ক্ষোভ থেকে প্রকল্পই বন্ধ করে দেওয়ার মতো অপতৎপরতার এমন নজির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতীতে কখনও ঘটেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজটি বাগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করে আইসিটি খাতের 'এস' আদ্যক্ষরের একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি সিন্ডিকেট। তারা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকল্পটি আটকে দেওয়ার তৎপরতা শুরু করে। প্রথম ধাপেই তারা প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে চাপ সৃষ্টি করে তাকে সরিয়ে দেয়। এতে পুরো প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে আসে। এতে প্রকল্পের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বরাদ্দ ১৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রায় পুরোটাই ফেরত গেছে। দুই মাস ধরে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় অলস সময় পার করছেন এতে নিযুক্ত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এ অবস্থা নিরসন ও প্রকল্পে গতি আনতে গত ২৪ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উচ্চ পর্যায়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, এটুআই প্রকল্পের প্রতিনিধি, আইসিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেসিস) মহাপরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট ও টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্নিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রকল্পকে সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বাঁচাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এর অন্যতম হলো, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে সরকারি সংস্থা টেসিস থেকে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটারসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনা হবে। আর কেনাকাটা করা হবে ই-জিপির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম)।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে মাউশির একজন পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার এ প্রকল্পে সিন্ডিকেটের সদস্যদের ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছেন ওই পরিচালক। তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান কাজ না পাওয়ায় তিনি প্রকল্পকে বিতর্কের মুখে ফেলে দেন। এক পর্যায়ে তার ইন্ধনে প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরও থেমে নেই তাদের তৎপরতা। তারা এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি কেনাকাটার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তৎপরতা শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, এ প্রকল্প ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু একটি চক্র নানা সুযোগ নিতে অশুভ তৎপরতা শুরু করে। তারা ভিত্তিহীন অভিযোগও করতে থাকে। এখন সরকারের অগ্রাধিকার এ প্রকল্পকে বাঁচাতে টেসিসের মাধ্যমে সব সরঞ্জাম কেনাকাটার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্প থেকে যারা অনৈতিকভাবে সুযোগ নিতে পারেনি, তারা এখন কেটে পড়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এ প্রকল্পের কাজ পেতে শুরু থেকেই একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ তৎপর ছিল। তাদের কথামতো কাজ না করায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করে। তবে কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার আগেই ওই ব্যবসায়ীদের চাপে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আবার তদন্তে তার বিরুদ্ধে আর্থিক কোনো দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি এখন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের টেবিলে আছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ (১২ আগস্ট বদলি হয়েছেন) বলেন, 'একটি তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে, এটা জানি। তবে সেখানে কী আছে, তা আমার জানা নেই। তবে প্রকল্পের গতি বাড়াতে দ্রুত পিডির বিষয়টি সমাধান করা হচ্ছে। আগের পিডি থাকবেন, না নতুন পিডি নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।'

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের তিন হাজার ৩৪০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৬ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং দুই হাজার ৫০০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনসহ পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তাকে আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, সাউন্ডবক্স ও মডেম ইত্যাদি শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের কাজ পেতে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি আইসিটি প্রতিষ্ঠান নানাভাবে চেষ্টা-তদবির করছিল। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান টেসিস এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর 'ডকইয়ার্ড' নামের প্রতিষ্ঠান কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য চিঠি দেয়। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা জায়গা থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে দরপত্র না দেওয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালককে চাপ দিতে থাকে।

এ অবস্থায় কেনাকাটা কোন পদ্ধতিতে হবে, তা জানতে প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রণালয়ের মতামত চান। এরপর ১৬ জানুয়ারি অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ও ১১ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে বৈঠকে ডিপিএম বাদ দিয়ে সরকারি ক্রয় নীতি (পিপিআর) অনুসরণ করে উন্মুক্ত পদ্ধতির ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রথম কিস্তিতে গত এপ্রিলে প্রায় ১৪ হাজার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কেনার জন্য ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু প্রজেক্টরের স্পেসিফিকেশন প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজসহ প্রতিষ্ঠানে ইনস্টলেশনের শর্ত দেওয়া হয়। এ শর্তটি সিন্ডিকেটের লুটপাটের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা সিন্ডিকেট করে দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। দরপত্র খোলার ১৭ দিন পর তারা পিডির বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কাছে দুর্নীতির অভিযোগ করে। অভিযোগে বলা হয়, দরপত্রে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই এ কাজ করতে পারবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১০ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই দিনে পিডিকে ওএসডি করে মাউশিতে পদায়ন করা হয়। কমিটি ১৯ জুন ১৩টি পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। জানা গেছে, সেখানে কোথাও পিডি অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে মন্তব্য নেই।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে মাউশির বিভিন্ন প্রকল্পে ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে, যা সরকারি ক্রয় নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ প্রকল্পেও এ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে কম্পিউটার, ল্যাপটপ সরবরাহের প্রস্তাব করে। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় অনুমোদন না করায় তারা ভিন্ন পন্থায় তৎপরতা অব্যাহত রাখে এবং প্রজেক্টরের দরপত্র বাতিল করে ডিপিএম পদ্ধতিতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ সরবরাহ করার জন্য প্রকল্প পরিচালককে চাপ দিতে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত রাখতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, স্মার্ট টেকনোলজিক (বিডি), ফ্লোরা, গ্লোবাল ব্র্যান্ড, এক্সপ্রেস সিস্টেমস, ওরিয়েন্টাল সিস্টেমস এভি লিমিটেড, আইওই, ইউনিক বিজনেস সিস্টেমস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য সরবরাহ করে থাকে। কিছুদিন আগে অপর এক প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকার একটি কাজ তারা সিন্ডিকেট করে বাগিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও আমলে নেয়নি মাউশি বা মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের শুরু থেকেই 'এস' আদ্যক্ষরের এক প্রতিষ্ঠান পণ্য সরবরাহের কাজ পেতে নানা ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে পিডিকে। এ সিন্ডিকেটের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে দরপত্রে অংশ নিতে না পারে, দরপত্রে তেমন শর্ত জুড়ে দিতেও প্রস্তাব দেওয়া হয় পিডিকে। পিডি সেগুলো আমলে না নিয়ে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ডিপিপির প্রাক্কলন ধরে দরপত্র আহ্বান করেন। এরপর দরপত্র বাতিল করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেটটি। এতে তারা মাউশির একজন পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে ব্যবহার করে।

মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয় যে, প্রতিটি প্রজেক্টরের দাম ৬০ হাজার টাকা করে কেনা সম্ভব। এ ব্যাপারে প্রকল্পের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'তিনি কোনো ধরনের অন্যায় করেননি। শুধু ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অনৈতিক প্রস্তাব রাখেননি, তাদের প্রলোভনে পা দেননি। এটাই তার কাল হয়েছে।' তিনি বলেন, তারা ৬০ হাজার টাকায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্ট দেওয়ার যে কথা বলেছে, তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্যই। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান দরপত্রের নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ও অন্যান্য শর্ত বহাল রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান ৬০ হাজার টাকা দরে ব্র্যান্ডেড প্রজেক্টর সরবরাহে সম্মত না হলে সংশ্নিষ্ট সিন্ডিকেটকে একই দরে প্রজেক্টর সরবরাহে বাধ্য করা উচিত। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তার দাবি, প্রকল্পের আওতায় ইন্টারনেট মডেম ও সিম কেনার চার কোটি সাত লাখ টাকার চারটি প্যাকেজের দরপত্রে ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে এবং চার কোটি সাত লাখ টাকার ডাটা প্যাকেজ বিনামূল্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিক্ষা বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে বলেন, একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মাত্র দুই ডলার মূল্যের একটি পণ্য তাদের কাছে ১৭০ ডলারে বিক্রি করতে চেয়েছিল। দ্রুত পণ্য গছিয়ে দিতে অর্থবছরের শেষ সময় জুনে রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করা হয়। অথচ ওই একই পণ্য সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে তারাই দুই ডলারে বিক্রি করেছে।

পরের
খবর

সমকাল সম্পাদককে আজ শেষ বিদায়


আরও খবর

বাংলাদেশ
সমকাল সম্পাদককে আজ শেষ বিদায়

প্রকাশ : ১৬ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে আজ বৃহস্পতিবার শেষ বিদায় জানাবেন স্বজন, সহকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ। আসরের নামাজের পর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যায় শায়িত হবেন তিনি।

এর আগে সকাল ৯টায় গোলাম সারওয়ার শেষবারের মতো আসবেন তেজগাঁওয়ে তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। সমকাল পরিবারের সদস্যরা প্রিয় অভিভাবককে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। সকাল ১০টায় সমকাল কার্যালয়-সংলগ্ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসমানী হল মাঠে গোলাম সারওয়ারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ারকে।

শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হবে তার পাঁচ দশকের আড্ডাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে সহকর্মীরা তাকে শেষ বিদায় জানাবেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে একাত্তরের রণাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধাকে। জোহরের নামাজের পর তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে প্রেস ক্লাব চত্বরে।

গত ২৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৭৫ বছর বয়সী সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় তাকে। গত ১৩ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে নিয়ে আসা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যরাতে মরদেহ নেওয়া হয় তার উত্তরার বাসভবনে। সেখানে সহকর্মী, স্বজনরা তাকে শেষবারের মতো দেখেন।

বারডেমের হিমঘরে রাত কাটিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে প্রায় চার দশকের আবাসস্থল উত্তরায় শেষবারের মতো ফেরেন গোলাম সারওয়ার। উত্তরায় যখন বসতি গড়ে ওঠেনি, সরু পথ, চারপাশ গাছপালা আর ঝোপজঙ্গলে ঘেরা তখন থেকেই তিনি সেখানকার বাসিন্দা। আধুনিক ও অভিজাত উত্তরা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদানও কম নয়।

গতকাল বিকেল ৪টা থেকেই উত্তরা চার নম্বর সেক্টর জামে মসজিদের সামনে ছিল বহু মানুষের অপেক্ষা। গোলাম সারওয়ার আসেন নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর- আসরের নামাজ শুরুর কয়েক মিনিট আগে। না, গতকাল তিনি স্মিতহাস্যে কারও সঙ্গে করমর্দন করেননি। দেরিতে আসায় বিনীত কণ্ঠে দুঃখ প্রকাশ করেননি। কফিনের ভেতর প্রিয় মানুষটির নিথর মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপেক্ষমাণদের অনেকেই।

বেদনাবিধুর পরিবেশে মসজিদের ভেতর জানাজায় অংশ নেন মুসল্লিরা। প্রয়াত গোলাম সারওয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার জন্য দোয়া চান বড় ছেলে গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু। দীর্ঘদিন একসঙ্গে পথচলার টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণ করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার আহমেদ ও উত্তরা চার নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি আনিসুল ইসলাম।

আতিকুল ইসলাম জানান, সর্বগুণের অধিকারী ভালো মানুষ ছিলেন গোলাম সারওয়ার। উত্তরার উন্নয়নে তার কাছ থেকে সুপরামর্শ পেতেন তিনি। এলাকার যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে শত ব্যস্ততার মধ্যেও উদ্যোগী ভূমিকায় থাকতেন তিনি। এই মানুষটিকে হারিয়ে শুধু উত্তরাবাসী নয়, পুরো বাংলাদেশই শোকাচ্ছন্ন।

আফসার আহমেদ বলেন, নির্ভীক সাংবাদিক, অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী গোলাম সারওয়ারের চলে যাওয়া দেশের জন্য, সাংবাদিকতার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আনিসুল ইসলাম বলেন, একবার উত্তরা চার নম্বর সেক্টরের মাঠ ও পার্কে সেক্টরের বাইরের কাউকে বিচরণ না করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গোলাম সারওয়ার বললেন, তাহলে অন্য মানুষগুলো মুক্ত নিঃশ্বাস নিতে কোথায় যাবে? সবার বিচরণের কথাই তো বিবেচনা করা উচিত। তার এ কথার পর আগের সিদ্ধান্ত পাল্টে মাঠ ও পার্ক সবার বিচরণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

জানাজার পর মসজিদ চত্বরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। এলাকার মানুষ নীরবে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে গতকাল দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়া নেওয়া হয়। সন্ধ্যা নদীর তীরের বানারীপাড়ায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। বাবা-মা আদর করে তাদের এই বড় সন্তানকে ডাকতেন দুলাল নামে। এলাকাবাসীরও দুলাল ছিলেন তিনি। ছিলেন বানারীপাড়া অন্তঃপ্রাণ।

গতকাল দুপুরে বানারীপাড়ায় তার মরদেহ পৌঁছালে শেষবারের মতো গোলাম সারওয়ারকে দেখতে আসেন সবাই। বানারীপাড়া মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে তার প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত মানুষ তাদের প্রিয় দুলালের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় সন্তানকে।

পরের
খবর

৫১ মামলায় গ্রেফতার ৯৭, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা


আরও খবর

বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

৫১ মামলায় গ্রেফতার ৯৭, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

প্রকাশ : ১৫ আগষ্ট ২০১৮

ঢাকায় নিরাগদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা- ফাইল ছবি

  সাহাদাত হোসেন পরশ

নিরাপদ সড়কের দাবিসহ ৯ দফা বাস্তবায়নে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংসতা, ভাংচুর ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে দণ্ডবিধি, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন মামলায় মোট ৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার হাজার অভিযুক্তের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছেন গোয়েন্দারা। উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সর্বশেষ মঙ্গল ও বুধবার কামরাঙ্গীরচর থেকে দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তারা হলেন- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের ছাত্র নাজমুস সাকিব (২৪) ও কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া নুরানিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আহমাদ হোসাইন (১৯)।

ইতিমধ্যে গত ৮ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে 'ব্লক রেইড' দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ। যদিও এ অভিযানে কেউ গ্রেফতার হয়নি। রাজধানীর যে কোনো এলাকায় আবারও এ ধরনের ব্লক রেইড হতে পারে।

ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘরে ও ক্লাসে ফিরে গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন আতঙ্কে। কারণ মামলার এজাহারে শত শত ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তাই যে কোনো সময় গ্রেফতার করে তাদেরও অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে হাজির করতে পারবে পুলিশ।

এদিকে নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট, ব্র্যাক ও ইস্ট ওয়েস্টের গ্রেফতার ২২ শিক্ষার্থীকে এক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে। ঈদের আগে তারা জামিন পাবেন কি-না, তাও জানেন না পরিবারসহ সংশ্নিষ্টরা।

এদিকে, গুজব ছড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার তিন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- তারেক জিয়া সাইবার পোস্টের মডারেটর ওয়ালিউল্লাহ, মাহবুব তনয় ও আলমগীর। মাহবুব তনয় স্বীকার করেন- এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে তিনি অনলাইনে তিনজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছেন। দুই হাজার লোক জড়ো করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, আন্দোলনে সহিংসতা, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও গুজব ছড়ানোর ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতারদের কেউ স্কুলের শিক্ষার্থী নয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোক।

পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ডিসি আলিমুজ্জামান এ ব্যাপারে সমকালকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা গুজব ছড়াতে মূল ভূমিকা রেখেছিল, তাদের শনাক্ত করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সাদেক খান নামে একজন সৌদি আরব থেকে তার পেজে আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। গ্রেফতার কেউ কেউ জানিয়েছে, তারা অন্যদের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে গুজব ছড়িয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেফতার ২২ ছাত্রের মধ্যে রয়েছেন রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহিম, ইফতেখার আহাম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসাইন অয়ন, জাহিদুল হক ও মো. হাসান। তাদের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই জুলহাস মিয়া সমকালকে বলেন, এই ১৪ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করার কারণ, তারা পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করছিল। তাদের হাতেনাতে ধরা হয়। রিমান্ড শেষে তারা এখন জেলে। অজ্ঞাত আসামিদের ব্যাপারে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভাংচুর ও সহিংসতার ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলায় ১২ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র ইকতিদার হোসাইন অয়নের বাবা এবাদত হোসেন তালুকদার সমকালকে জানিয়েছেন, ৬ আগস্ট বনানীর ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর অয়ন ও তার বন্ধু সীমান্তসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভাংচুরের ঘটনায় করা মামলায় বাড্ডা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের। যদিও তারা ঘটনার দিন বাড্ডা এলাকায়ই যায়নি।

সীমান্ত সরকারের মা সঞ্চিতা সাহা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। এতে তার ছেলে অপরাধী হলে দায় মেনে নেবেন তিনি। তবে তার ছেলে অপরাধ করেনি বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

এ মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে জামিনের শুনানি রয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন মামলাজনিত কারণে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কে রয়েছেন।

গ্রেফতার আরও অন্তত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করলেও আইনিভাবে তা মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করছে না।

গত ৮ আগস্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বৈঠক হয়। সেখানে উপাচার্যদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী এ অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিণত। তাদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আন্দোলনে সহিংসতা, গুজব ও ভাংচুরের ঘটনায় দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মোট ৪৩ মামলায় ৮১ জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আন্দোলনে সহিংস ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের রমনা বিভাগে ১৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৩১ জন। রমনা বিভাগে মামলার মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে ১০ মামলায়। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ২০ জন। এ ছাড়া ৮৪ জনকে আসামি করে দায়ের চারটি মামলায় আসামি করা হয় ১১ জনকে। ১৪টি মামলার মধ্যে ১৩টির তদন্ত করছে থানা পুলিশ এবং একটি মামলা তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

লালবাগ বিভাগে একটি মামলা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে। একজন গ্রেফতারও হয়েছে। ওয়ারী বিভাগে দুই মামলায় আসামি অজ্ঞাতনামা ৩৫০-৪৫০ জন; গ্রেফতার হয়েছে একজন। এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগে ছয়টি মামলা হয়েছে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে। এসব মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে ছয়জনকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে দুইজন এজাহারনামীয়সহ সন্দেহভাজন আরও ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে। মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানায় বিইউবিটি ইউনিভার্সিটি, কমার্স কলেজসহ অন্যান্য কলেজের অজ্ঞাতনামা ৫০০-৬০০ জন ছাত্র-শিক্ষককে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে কাফরুল থানায় একটি এবং ৯৬ জনকে আসামি করে আরও তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। গুলশান বিভাগে অজ্ঞাতনামা ২০০০-২৪৫০ জনকে আসামি করে সাতটি এবং ৩১ জনকে আসামি করে আরও দুটিসহ নয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে তিনটি এবং ১১৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটিসহ মোট চারটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে ২৯ জনকে আসামি করে আটটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চারটি ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, একটি ডিবি পুলিশ এবং একটি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। ৫৭ ধারার মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, বুয়েটের ছাত্র দাইয়ান আলম, জুম-বাংলার প্রধান নির্বাহী ইউসুফ চৌধুরীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর