বাংলাদেশ

যমজ সন্তানের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

যমজ সন্তানের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আবারও বাবা হয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে যমজ ছেলের জন্ম দেন তার স্ত্রী হনুফা আক্তার।

রেলমন্ত্রী জানান, মা ও দুই নবজাতক সুস্থ আছে। সদ্যজাত দুই ছেলের নাম এখনো ঠিক করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নাম ঠিক করা হবে।
যমজ সন্তানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মুজিবুল হক।


২০১৪ সালের দীর্ঘ কুমারজীবনের ইতি টানেন রেলমন্ত্রী। ৬৭ বছর বয়সে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর হনুফা আক্তারকে বিয়ে করেন মুজিবুল হক। এরপর ২০১৬ সালের মে মাসে তাদের মেয়ে জন্মগ্রহণ করে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

'বন্দুকযুদ্ধে' ৬ মাদক ব্যবসায়ী নিহত


আরও খবর

বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

পাঁচ জেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ছয় মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ফেনী, মাগুরা, আখাউড়ায়, নারায়ণগঞ্জে ও কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

মাগুরা, ফেনী, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা থেকে পাঠানো প্রতিনিধিদের খবর:

মাগুরা শহরতলীর পারনান্দুয়ারী হাউজিং প্রজেক্ট এলাকা থেকে আইয়ুব শেখ ও মিজানুর রহমান কালু নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আইয়ুব শহরতলীর নীজনান্দুয়ালী এলাকার মৃত জব্বার শেখ ও কালু শহরের ভায়না টিটিডিসি পাড়া এলাকার আব্দুল বারীর পুত্র।

মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল ছয়েরউদ্দিন জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে শহরতলীর পারনান্দুয়ালী সরকারি হাউজিং প্রজেক্ট এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে। উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইন, তিনটি রাইফেলের গুলি ও ছয়টি বন্দুকের গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

ছয়েরউদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে আইয়ুব শেখ ও মিজানুর রহমান কালু নিহত হয়েছে। আইয়ুব শেখের নামে হত্যা ও মাদক অইনে ২১ টি এবং কালুর বিরুদ্ধে ১৮ টি মামলা রয়েছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ পরীক্ষিত পাল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।

 [ বিস্তারিত আসছে ]


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কে নেবে ওদের দায়িত্ব


আরও খবর

বাংলাদেশ
কে নেবে ওদের দায়িত্ব

সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন পঙ্গুদের দুঃসহ জীবন

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৮

  রাজবংশী রায়

পরিবারে তারাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করত পরিবারের ভরণ-পোষণ। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! তারাই এখন পরিবারের কাছে বড় বোঝায় পরিণত হয়েছেন। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা এলোমেলো করে দিয়েছে প্রত্যেকের জীবন। দুর্ঘটনায় কেউ হাত, কেউবা পা হারিয়েছেন। স্বল্প বেতনে চাকরি করে পরিবারকে নিয়ে বেঁচে থাকার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, মাঝপথে এসে তা হারিয়ে গেল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভবিষ্যতের অজানা আতঙ্ক তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সামনে শুধুই অন্ধকার। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী এমন কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে তারা রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন, যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হাসানের মৃত্যু দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছিল। তবে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পঙ্গুত্বের শিকার এসব মানুষ এখনও অলক্ষ্যে রয়ে গেছেন। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণকারী এসব মানুষের দায়িত্ব কে নেবে-এমন প্রশ্ন সংশ্নিষ্টদের।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা 'নিরাপদ সড়ক চাই'-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন সমকালকে বলেন, জনগণের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণকারী মানুষের দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত। কারণ চালকের দক্ষতার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করেই অনেক চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় নেমে তারাই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। যারা লাইসেন্স দিয়েছে তারা দায় এড়াতে পারে না। কী করলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে, সে সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা সরকারের কাছে অনেক আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

৫০০ শয্যার পঙ্গু হাসপাতালে কোনো শয্যাই ফাঁকা নেই। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাই বেশি। গত শনিবারও দুর্ঘটনায় হাত-পা হারানো পাঁচজনকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আহত হয়ে যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের ৮০ শতাংশই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গনি মোল্লা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতার প্রয়োজন। চালকদের দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার অনেক মানুষের খোঁজ মিলেছে। তাদের মানবেতর জীবনের গল্প শুনে অশ্রুসিক্ত হতে হয়। তাদের একজন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মণ্ডল। তিনি জয়পুরহাট শাখা ব্র্যাকের আয়েশা-আবেদ ফাউন্ডেশনে দর্জি প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। মাত্র পাঁচ হাজার টাকার বেতন দিয়েই চলে তার সংসার। গত ২০ এপ্রিল স্মার্টকার্ড নিতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। নাটোরের সিংড়া উপজেলার কাছাকাছি যেতেই একটি ট্রাক তার বাইককে ওভারটেক করে। তখন তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। ট্রাকের চাকায় তার ডান পা পিষ্ট হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তার স্ত্রী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার ডান পা কেটে ফেলা হয়। দেলোয়ার মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী ট্রাকটি আটক করে থানায় সোপর্দ করে। পরে থানা পুলিশ চিকিৎসা বাবদ তাকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয়।

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন দুর্ঘটনায় স্ত্রী সাবিনা আক্তারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। সাবিনা আক্তার তার স্বামীর পা হারানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য পেতে সহায়তার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

হযরত আলী :গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা হযরত আলী গত ১৭ এপ্রিল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। ওই দিন সকালে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হযরত আলী চিকিৎসার জন্য কাপাসিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুর জেলা সদরে রওনা হন। বাসে উঠতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। তখন বাসের পেছনের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার পা থেঁতলে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে আনা হলে সেখানে তার ডান পা কেটে ফেলা হয়।

হযরত আলী স্থানীয় একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। ডান পা হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। যে বাস তার পা কেড়ে নিয়েছে, সেই বাস মালিকপক্ষ চিকিৎসার জন্য হযরত আলীকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। এরপর আর কোনো খোঁজ নেয়নি। হযরত আলী অনেকটাই বাকহীন। তার মেয়ে ফাতেমা জানান, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জ্ঞান ফেরার পর থেকে বাবা কারও সঙ্গে তেমন কথা বলছেন না। তাকে সান্ত্বনা দিতে গেলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। সংসার ও তিন ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ কে চালাবে তা নিয়ে চিন্তিত ফাতেমা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে বাস মালিকদের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

শারমিন বেগম :দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত সংসারের হাল ধরতে চাকরি নিয়েছিলেন গাজীপুরের বাসিন্দা ১৪ বছর বয়সী শারমিন বেগম। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর দারিদ্র্যের কাছে হার মানতে হয় তাকে। পড়াশোনা থামিয়ে চাকরি নেন গাজীপুরের কাশেম গ্যাস লাইট কারখানায়। মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতন পেতেন এই কিশোরী। মা জরিনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এই দুইজনের সামান্য বেতন দিয়েই চলত পরিবারটি। কিন্তু ১৮ এপ্রিল সকালে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য লেগুনায় ওঠে শারমিন। কিছুদূর যাওয়ার পর লেগুনা থেকে একজন যাত্রীকে নামতে দিতে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়ায় সে। তখন পেছনে থেকে একটি বাস তার বাঁ পা পিষ্ট করে দিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়।

পঙ্গু হাসপাতালে বসেই শারমিনের সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার বিবরণ জানতে চাইতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে শারমিন। তার অভিযোগ, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বাসটি আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে তা ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে কোনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য এক আত্মীয়ের কাছ থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন তাও প্রায় শেষ।

শারমিনের মা জরিনা বেগম তার মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কে বিয়ে করবে তার মেয়েকে? ওর জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল। যারা শারমিনের জীবনটা নষ্ট করে দিল তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একটি সরকারি চাকরি দাবি করেন জরিনা বেগম।

মুরাদ হোসেন :ট্রাকচালক মুরাদ হোসেনের ঘটনাটি একটু ভিন্ন। একটি যাত্রীবাহী বাসকে রক্ষা করতে গিয়ে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারান। একটি ব্রিজের খাম্বার সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। ওই ধাক্কায় পড়ে গিয়ে বাঁ পা হারান মুরাদ হোসেন। প্রায় এক মাস আগে কিশোরগঞ্জে ঘটনাটি ঘটে। ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত। বছর দেড়েক আগে বিয়ে করেছেন মুরাদ। স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে লালন-পালন ও সংসার চালানোর বিষয় মনে এলেই অশ্রুসজল হন মুরাদ। যে প্রতিষ্ঠানের ট্রাক চালাতেন দুর্ঘটনার পর তারাও তার খোঁজ নিচ্ছে না। মুরাদ জানান, সড়কে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তা বাস অথবা ট্রাকচালকদের ভুলের কারণেই হয়। বেশিরভাগ চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। আবার হাইওয়েতে গিয়ে অনেক সময় হেলপার দিয়েও গাড়ি চালানো হয়। এতে করে সড়কে প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুরাদ বলেন, সবার প্রতি আহ্বান থাকবে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে গাড়ি চালাবেন। মনে রাখবেন, আপনার একটি ভুলের কারণে একটি পরিবারে সারাজীবনের জন্য দুঃস্বপ্ন নেমে আসতে পারে।

পরের
খবর

রেহাই পাবে না গডফাদাররাও


আরও খবর

বাংলাদেশ
রেহাই পাবে না গডফাদাররাও

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ আতাউর রহমান

মাদকবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধুবাদ জানানো হলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন, 'কেবল চুনোপুঁটি নয়, মাদকের গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় নিতে হবে। তাদের ছাড় দেওয়া হলে অভিযানের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে।' তবে পুলিশ-র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তির পেশা বা পরিচয় দেখা হবে না। এই মরণনেশা নিয়ে যারা বাণিজ্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো শৈথিল্য বা কৃপা দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তারা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, চলমান অভিযান মাদকের বিরুদ্ধে 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' ঘোষণার শামিল। এ অভিযানে মাদক-সংশ্নিষ্টদের কঠোর বার্তা দিতে চান তারা, যাতে কেউ মাদক ব্যবসা ও সেবনে জড়িত থাকার সাহস না দেখান।

চলমান অভিযানে এখনও মাদকের গডফাদার পর্যায়ের তেমন কোনো ব্যক্তি পুলিশ-র‌্যাবের গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েননি। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে দেশব্যাপী পরিচিত এমন কারও 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যারা ধরা পড়ছেন বা 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হচ্ছেন, তারা স্থানীয় পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী। যারা নেপথ্যে থেকে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের গ্রেফতার করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় নেওয়া গেলে জনগণের কাছে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে আরও ইতিবাচক সাড়া মিলবে।

সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সর্বশেষ গত রোববার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যেভাবে জঙ্গিবাদ দমন করা হয়েছে, তেমনি মাদক থেকেও দেশকে উদ্ধার করা হবে।

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' বুধবার পর্যন্ত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন আটজন। অতীতে দেশে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযান হলেও 'বন্দুকযুদ্ধে' এত নিহত হওয়ার নজির নেই।

খুলনায় এক অনুষ্ঠানে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সব গোয়েন্দা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিয়েছে। কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, কারা মাদকের ব্যবসা করেন। আমরা তাদের বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি। আমাদের কাছে যে তালিকা রয়েছে, সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজছে। কাউকে আমরা ক্রসফায়ারে দিই না। যখন চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখনই নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের রক্ষা করতে গুলি করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় আমাদের পুলিশ সদস্য, র?্যাবের সদস্যও আহত হচ্ছেন।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। সে গডফাদার হোক বা অন্য কেউ। মাদকের বিরুদ্ধে জড়িতদের ব্যাপারে আইনের মধ্যে থেকেই সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সমকালকে বলেন, মাদকের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা সেখানে অর্থলগ্নি করেছে, কারা বাসা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছে তাদের তালিকা অচিরেই প্রকাশ করা হবে। মাদকের যারা গডফাদার, আইনের আওতায় নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করার আহ্বান জানানো হবে।

সংশ্নিষ্টদের বক্তব্য হচ্ছে ইয়াবা এখন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ফেনসিডিলের রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্য সরাসরি মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সময় পুলিশের অভ্যন্তরীণ আলোচনায়ও উঠে এসেছে পুলিশের সঙ্গে মাদকের সংশ্নিষ্টতা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের সংশ্রব দূর করতে হলে আগে পুলিশের নিয়োগ থেকে শুরু করে বদলিবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন সময় অসাধু পুলিশ সদস্যরা আটকও হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬৩ লাখ ৯ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করে। এ ছাড়া একই সময়ে তারা এক লাখ ৩৫ হাজার ২২৬ বোতল ফেনসিডিল আটক করে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় র‌্যাব-পুলিশ সারাদেশে অভিযান চালিয়ে আড়াই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে গ্রেফতার করে। ৪ মে থেকে র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হন দুই হাজার ৭৬৪ জন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে প্রতিদিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তারা কোথা থেকে মাদক পান, বিক্রিতে কারা সহায়তা করেন বা স্থানীয় কোনো প্রভাবশালীকে মাসোয়ারা দিতে হয় কি-না সেসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রভাবশালী কেউ থাকলে তাদের দিকেও নজরদারি করা হচ্ছে। এসব প্রভাবশালীকে সব তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে তৈরি মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন গডফাদারের নাম উঠে এসেছে। এসব তালিকা এখন হালনাগাদ করা হচ্ছে। জোরেশোরেই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে আগের তালিকায় থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসায় রয়েছেন কি-না বা তারা মাদক ব্যবসায় সহায়তা করেন কি-না। তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা তথ্য অনুসন্ধান করছে। প্রমাণ মিললেও এসব প্রভাবশালীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বহনে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে মাদকের চিহ্নিত আখড়াগুলোও ধ্বংস করা হচ্ছে। চলমান অভিযানে মাদক বিশেষ করে ইয়াবার পাইকারি বিক্রেতাদের টার্গেট করে কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ইয়াবার অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। অভিযানের মধ্যে গোলাগুলিতে অনেকে নিহতও হয়েছেন। এরপরই মাদকের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী এখন 'হোম ওয়ার্ক' চলছে। এসব প্রভাবশালী গডফাদারের বিষয়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক তালিকা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব তালিকা যাচাই করে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ইয়াবার গডফাদারের তালিকায় শতাধিক নাম :সূত্রগুলো বলছে, মাদকের গডফাদার বা হোতাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে 'হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল' রয়েছেন। তারা মূলত অন্য কাজের আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে ইয়াবার গডফাদার হিসেবে সর্বত্রই আলোচনায় কক্সবাজারের স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির নাম। তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও মুখ খোলেনি। বিভিন্ন সময়ে সংস্থাগুলোর করা মাদকের গডফাদারদের তালিকায় দেখা যায় ঘুরেফিরে আবদুর রহমান বদির পরিবারের লোকজনের নামও এসেছে। এ ছাড়া গডফাদারের তালিকায় টেকনাফের ফয়সাল, সফিক, আল আমিন, আবদুস শুক্কুর, টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা সাহেদুর রহমান, মুজিবুর রহমান, আকতার ও শাহেদ, কামরুল হাসান, মারুফ, সাইফুল করিম, আবুল কালাম, নুরুল হুদা, জাফর আহমেদ, নুরুল আমিন, শামসুল আলম, দিদার মিয়া, মোস্তাক, আজিজসহ কক্সবাজার এলাকার অন্তত ৬০ জন রয়েছেন এই তালিকায়। এ ছাড়া ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবার গডফাদার হিসেবে কড়াইল বস্তির বাবা কাসেম; গেন্ডারিয়ার রবিন, রহিমা বেগম; গুলশান এলাকার সালাউদ্দিন ও রাজু, বাড্ডার পিচ্চি মোশাররফ, খিলক্ষেতের নাজমা ইসলাম, নিউমার্কেট এলাকার আসমা আহমেদ ডালিয়া, নাছির উদ্দিন; ভাসানটেকের জামাল সরদার, উত্তরার মহসিন, মিরপুরের জাহানারা বেগম, খিলগাঁওয়ের নূর মোহাম্মদ ও সাফিয়া আক্তার শোভা; পল্টনের ইফতেখার জামান জয়, লালবাগের মহসিন আজাদ, কাঁঠালবাগানের জাহিদ ওরফে টাইগার বাবুর নাম রয়েছে। এ ছাড়া গডফাদার ও তাদের সহযোগীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামও রয়েছে। সর্বশেষ ডিএমপি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে তৈরি করা পৃথক প্রতিবেদনে রাজধানীতে মাদকের ৮২ গডফাদারের নাম উঠে আসে। সেখানে তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকার দলীয় ৮ নেতার নাম রয়েছে। তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- বনানী থানার এসআই আবু তাহের ভুইয়া, পল্লবী থানার এসআই বিল্লাল ও মাজেদ। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেন ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি জামাল মোস্তফার ছেলে রুবেল, সবুজবাগের ওহাব কলোনির স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা ওরফে বাবরী মোস্তফা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান পপি।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সারাদেশেই তাদের হাতে জেলাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা থাকে। এসব তালিকায় বিক্রেতা, বহনকারী এবং তাদের আশ্রয়দাতা গডফাদারদের নামও থাকে। সময়ের পরিবর্তনে এসব তালিকা হালনাগাদ করে নতুনভাবে অভিযানও চালানো হচ্ছে।