অন্যান্য

কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: সুলতানা কামাল

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯

কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: সুলতানা কামাল

সুলতানা কামাল— ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

গত তেইশ বছরেও কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার না হওয়াকে 'রাষ্ট্রের ব্যর্থতা' বলে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

বুধবার রাজধানীর ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে 'কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ বছর : ন্যায়বিচারের দাবি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুলতানা কামাল বলেন, কল্পনা চাকমা অপহরণ বিচারহীনতার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। পাশাপাশি কল্পনা নিজে সবার কাছে সংগ্রামেরও প্রতীক।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউল্যালাঘোনা গ্রামের বাড়ি থেকে অপহৃত হন এইচডব্লিউএফের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনিরা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য লুৎফুননেছা খান এমপি, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্থ, লেখক ও সাংবাদিক বিপ্লব রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ ও সঞ্চালনা করেন আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্‌গুনী ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে লুৎফুননেছা খান বলেন, কল্পনা প্রতিবাদী নারী ছিলেন। রাষ্ট্রের স্বার্থেই কল্পনা অপহরণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।

খুশী কবির বলেন, কল্পনার কণ্ঠস্বর রোধ করতে তাকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তবে কল্পনা অগ্নিশিখায় পরিণত হয়েছে।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, ২৩ বছর আগে একটি মেয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে। তাকে খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রেরই।

সভা থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো– অবিলম্বে কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জড়িতদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা; রুপন, সুকেশ, মনোতোষ ও সমর বিজয় চাকমার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা।

মন্তব্য


অন্যান্য