অন্যান্য

জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

  সমকাল প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীতে আফতাব প্লাজার দোতলায় পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের মালিক প্রদীপ পোদ্দার। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি একটি ডাকাত দলের প্রধান। তার ছত্রছায়ায় থাকা ডাকাতদের লুটের মালপত্র তিনি নামমাত্র দামে কিনে নেন। তাদের কেউ ধরা পড়লে আইনজীবী নিয়োগ করে জামিনের ব্যবস্থা করেন। এমনকি ডাকাতদের 'আয়' না থাকলে তাদের সংসার খরচও চালান প্রদীপ। তাকেসহ দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতার অন্য পাঁচজন হলো— দুলাল হোসেন, রাসেল, জাকির হোসেন, কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগম ওরফে আজান। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া গেছে লুণ্ঠিত পাঁচ ভরি ছয় আনা স্বর্ণের গহনা, চারটি মোবাইল ফোন, ১১ হাজার টাকা, স্বর্ণ যাচাইয়ে ব্যবহৃত রাসায়নিকের দুটি বোতল, সিটি গোল্ডের ১১ জোড়া চুড়ি, সাত জোড়া কানের দুল, দুটি হার ও একটি কষ্টিপাথর।

তাদের গ্রেফতার উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, তিন বছর ধরে প্রদীপ জুয়েলারি সরঞ্জামের (গহনার বাক্স, গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত গ্যাস টিউব, সোহাগা ইত্যাদি) ব্যবসা করে আসছেন। আগে তার নিজেরই জুয়েলারি ব্যবসা ছিল। তখন লুণ্ঠিত গহনা কেনার সূত্রে ডাকাতদের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্য হয়। পরে সে নিজেই একটি ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচালনা শুরু করে। প্রায় ১০ বছর ধরে সে ইয়াবা আসক্ত বলে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া গ্রেফতার দুলাল হোসেন পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। গাজীপুর ও উত্তরায় খুচরা কাপড় বিক্রির পাশাপাশি সে বিভিন্ন বাসার লোকজনের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখত। পরে সুযোগ বুঝে বাসার ভেতরে ঢুকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। ১০-১২ বছর ধরে সে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ডাকাতি করে আসছে। কিছুদিন আগে টঙ্গীতে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। সেও ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাদকাসক্ত। মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক সে গ্রহণ করে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ধরা পড়েছে এবং তিনটি মামলায় আড়াই বছর কারাগারে ছিল। গ্রেফতার রাসেল এই চক্রের অসংখ্য চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। সেও ৮-৯ বছর ধরে ইয়াবায় আসক্ত। এর আগে টঙ্গী থানা পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছিল। ডাকাতি মামলায় উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের হাতেও সে দু'বার গ্রেফতার হয়। অপর আসামি জাকির হোসেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি। চার বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে থাকার সময় দুলাল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্রে সে ডাকাত দলে যোগ দেয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার কোকিলা বেগম আসামি দুলাল হোসেনের স্ত্রী এবং হাজেরা বেগম তার মা। তারা ডাকাতির মালপত্র লুকিয়ে রাখেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ইটভাটায় আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বাড়ছে


আরও খবর

অন্যান্য

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক আজ

ইটভাটায় আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বাড়ছে

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ইটভাটা নির্মাণ ও ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের অপরাধে শাস্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে প্রচলিত আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে এ অপরাধের শাস্তি ছিল এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। নতুন আইনে জরিমানার অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশসম্মত ছিদ্রযুক্ত ইট ও ব্লক প্রস্তুতকরণে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়াই ভাটার মালিকরা  এসব ইট ও ব্লক প্রস্তুত করতে পারবেন।

এমন বিধান রেখে 'ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৮'-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন হতে পারে। বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বিশেষ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

এ ছাড়াও বৈঠকে 'বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইন'-এর খসড়া-২০১৮ নীতিগত, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন-২০১৮, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা অধিকার আইন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (সংশোধন) ও একাদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে ২০১৩ সালের প্রণীত আইনটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাজার মেয়াদ বহাল রেখে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার অনুমোদিত ইটভাটা ছাড়া ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনা কিংবা চালু করা যাবে না। ইট প্রস্তুতের জন্য ডিসির অনুমোদন নিয়ে যে কেউ মজা পুকুর, খাল, বিল, নদী, খাঁড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটতে পারবেন। এ নিয়ম মানা না হলে দুই বছরের কারাদণ্ড ঠিক রেখে দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হচ্ছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার পর ইটের কাঁচামাল হিসেবে মাটির ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে ইটভাটাগুলো নির্ধারিত হারে ব্লক না করলে শাস্তির বিধান থাকছে। সেই শাস্তি হিসেবে দুই লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আগে জরিমানা ছিল এক লাখ টাকা।

ইট প্রস্তুতের মান মাত্রার বেশি সালফার, অ্যাশ, মার্কারি- এগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে জরিমানা ছিল ৫০ হাজার টাকা। সেটি বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হচ্ছে।

সংশোধিত খসড়া আইনে ব্লকের ক্ষেত্রে ও হলো ব্রিক বা ছিদ্রযুক্ত ইট প্রস্তুতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইটে কাঁচামাল হিসেবে মাটির ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইটভাটায় উৎপাদিত ইটের একটি নির্দিষ্ট অংশ হলো ব্রিক বা ব্লক প্রস্তুতের নির্দেশনা জারি করতে পারবে। আগে ৫০ শতাংশ হলো ব্রিক করার নির্দেশনা ছিল। মাটির ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে ইট বা মাটির বিকল্প উপাদানের ব্লক উৎপাদন ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারবে।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আগে ইটভাটার জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র নিতে হতো। দ্রুত কাজ করার জন্য আইন কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে। তবে পাহাড় বা টিলা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করতে হলে সেটি আধা কিলোমিটার দূরে হতে হবে।

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য তহবিল গঠন করা যাবে :সরকারি দান, অনুদান, সাহায্য অথবা মঞ্জুরি অথবা বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে তহবিল গঠন করা যাবে। এ ছাড়াও দানশীল ব্যক্তির দান নিয়ে, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সরকারি/আধা সরকারি/বেসরকারি সংস্থা থেকে পাওয়া অর্থ, জাতিসংঘ বা এর কোনো বিশেষায়িত সংস্থা, কোনো আঞ্চলিক সংস্থা, বহুজাতিক বা আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়ন দিয়ে তহবিল সমৃদ্ধ করা যাবে। তহবিলের অর্থ সমাজের অবহেলিত নারী, শিশু, অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত বা কম সুবিধাপ্রাপ্ত, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী, অসহায়, দুর্বল, অক্ষম, শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের সাহায্যে ব্যয় করা যাবে। এমন বিধান রেখে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন, ২০১৮ প্রস্তুত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে একটি পরিষদ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও নিজস্ব সিলমোহর থাকবে। পরিষদের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। তবে প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে এর শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। একজন নির্বাহী সচিবসহ এর পরিচালনায় ৩৯ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড থাকবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এর সভাপতি হবেন। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চেয়ারম্যান করে একটি নির্বাহী কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। কমিটি পরিচালনা বোর্ডের দেওয়া সব কাজ সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মন্ত্রিসভায় উঠছে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত আইন


আরও খবর

অন্যান্য
মন্ত্রিসভায় উঠছে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত আইন

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওয়াকিল আহমেদ হিরন

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন করছে সরকার। এরই মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শিগগির এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

তবে এ-সংক্রান্ত আইন পাসের আগেই বহু দণ্ডিত ও অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী তাদের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার বিধান নেই। তবে কারান্তরীণ বা পলাতক যুদ্ধাপরাধীরা যাতে সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে, সে উদ্যোগ নিয়েছে আইসিটির তদন্ত সংস্থা।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে বিভিন্ন দল গঠন করে তারা ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। সে সময় সাধারণ মানুষের ধনসম্পদও লুট করা হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতে এ পর্যন্ত জামায়াতের সাত শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের সাজা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আরও ২৬ জনের ফাঁসি ও যাবজ্জীবনের রায় আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শুধু সাজা নয়, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও দাবি ওঠে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে।

রাজাকার শিরোমণি জামায়াত আমির প্রয়াত গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, সাধারণ জ্ঞান ও দালিলিক প্রমাণাদি  থেকে এটা স্পষ্ট যে, জামায়াত ও এর অধীন সংগঠনের প্রায় সবাই সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় একাত্তরে গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী একটি অপরাধী দল হিসেবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করেছে।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তোলা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এর পর প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো আইন হয়নি।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কাজ গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। এখন এটা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সমকালকে জানান, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে অবশ্যই আইন করা দরকার। এ জন্য আইসিটি আইনটিও সংশোধন করতে হবে। বিদ্যমান আইনটি সংশোধন করা হলে রায় বা আদেশের মাধ্যমেই আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকারী ও নরঘাতকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে বহুদিন ধরে বলে আসছি। সরকার আমাদের কথা শুনছে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভিকটিমদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি দেওয়া যায়। আইসিটি আইন সংশোধন করে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরীর বিচার শুরুর আগেই বাড্ডা এলাকায় থাকা তার প্রচুর সম্পত্তি পানির দামে বিক্রি করা হয়। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের আগেই তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। কেন সরকার তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল না, সে প্রশ্ন রাখেন মুক্তিযুদ্ধের এই গবেষক।

আইসিটি আইনে দণ্ডিত বা পলাতক আসামির সম্পত্তি ক্রোকের বিষয়ে কিছু বলা নেই। প্রচলিত আইনেও রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। সরকারের হাতে এসব ক্ষমতা না থাকায় সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রচলিত আইনে আসামিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাসহ সম্পত্তি ক্রোকের বিধান আছে। আইসিটি আইনে তাও নেই।

আইসিটির তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান সমকালকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করছে বলে আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইনগতভাবে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, আসামির সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা নেই। তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামিরা অনেক বিত্তশালী ও প্রভাবশালী। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে অনেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি বানিয়েছে।

প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সমকালকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে আইন করা খুবই জরুরি। তার মতে, বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে কোন কোন আসামি সম্পত্তি বিক্রি করেছে, সেটা সরকার খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

প্রচলিত আইনে গ্রেফতার কোনো আসামি ইচ্ছা করলে কারাগারে বসেই কমিশনের মাধ্যমে তার সব সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। নিবন্ধন আইনে বলা আছে, খরচ দিলে বাড়িতে বা পছন্দের জায়গায় গিয়ে সংশ্নিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার জমি দলিল করে দিতে পারবেন।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীরা গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করেছে। আইসিটিতে বিচার শুরুর আগে বা পরে চিহ্নিত আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের অনেকে গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করে দেশত্যাগ করে। পাবনার যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নায়েবে আমির মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মাওলানা আব্দুস সুবহান বিচারের আগেই তার সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করে। বিচার শুরু ও দেশত্যাগের আগে পিরোজপুরের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার গোপনে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে। ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার তার একাধিক সম্পত্তি বিক্রি করে। কক্সবাজার-মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রধান আসামি মৌলভী জাকারিয়া তার সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তর করে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আগে বা পরে এবং তদন্ত চলাকালে আরও অনেক যুদ্ধাপরাধী তাদের সম্পত্তি বিক্রি বা পরিবারের সদস্যদের নামে হস্তান্তর করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

আইসিটির তদন্ত সংস্থা সূত্র জানায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হওয়ার পরেও আসামিরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে এসব সম্পদ বিক্রি করেছে। এটা এখনও চলছে। কারাগারে থাকা বা পলাতক যুদ্ধাপরাধীরা যেন তাদের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে, সে জন্য তদন্ত সংস্থা থেকে সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) এবং মানি এক্সচেঞ্জে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পরের
খবর

নতুন নৌবাহিনী প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী


আরও খবর

অন্যান্য

এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী। রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নৌপ্রধান নিয়োগের কথা জানানো হয়। তিনি অ্যাডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

রিয়াল অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী উপকূল রক্ষী বাহিনী-কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নেবেন তিনি। ২০২০ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত এক বছর ছয় মাসের জন্য আওরঙ্গজেবকে নৌবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই দিন আরেক প্রজ্ঞাপনে অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিনের অবসরোত্তর ছুটি মঞ্জুরের কথা জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আওরঙ্গজেব চৌধুরী ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ ও ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল), কমডোর কমান্ডিং চট্টগ্রাম, কমডোর সুপারিনটেনডেন্ট ডকইয়ার্ড, নৌসদরে নৌ-সচিব ও বিভিন্ন পরিদপ্তরের পরিচালক, ফ্রিগেটসহ বিভিন্ন জাহাজের অধিনায়ক, মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন তিনি। আওরঙ্গজেব চৌধুরী জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি হাওয়াই থেকে ফ্লাগ অফিসার কমপোনেন্ট কমান্ডার কোর্স সম্পন্ন করেন।

আওরঙ্গজেব চৈৗধুরী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি এবং ক্যাপস্টোন কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি এখন ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে পিএইচডি করছেন। আওরঙ্গজেব চৌধুরীর স্ত্রী চিকিৎসক। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।