পরিবেশ

ঢাকার শতবর্ষী বৃক্ষ

রমনার দেশি গাব

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমনার দেশি গাব

  মোকারম হোসেন

রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের স্টার গেট দিয়ে প্রবেশ করে খানিকটা সামনে এলে বাঁ পাশেই একটি পরিণত দেশি গাবগাছ চোখে পড়বে। গাছটির কাণ্ড ও ডালপালা দেখে বয়সটা অনুমান করা যায়। কারণ দেশি গাবগাছ অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ে। এ কারণে কাণ্ড ও ডালপালা বেশ শক্ত-পোক্ত। ধারণা করা যেতে পারে, ব্রিটিশ-ভারতের উদ্যানকর্মী এবং রমনা নিসর্গের স্থপতি রবার্ট লুইস প্রাউডলকের সময় এ গাবগাছসহ আরও কিছু গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

রূপসী বৃক্ষ হওয়া সত্ত্বেও গাব গাছের (Diospyros perigrina) সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই উদাসীন। ভালো কাঠ হয় না বলে মানুষের কাছে এ গাছের তেমন গুরুত্ব নেই। কিন্তু ঝড়-ঝঞ্ঝা ও ভূমির ক্ষয়রোধে এ গাছ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের ছায়াসুনিবিড় গ্রামগুলোতে এখনও দু'চারটি করে গাবগাছ চোখে পড়ে। বিলেতি গাব নামে আমাদের দেশে আরেক ধরনের গাবগাছও আছে। তবে গড়ন ও পত্রবিন্যাসের দিক থেকে এই দু'ধরনের গাবগাছের মধ্যে অনেক পার্থক্য। দেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাবকে আমরা দেশি গাবগাছ নামেই চিনি।

চিরসবুজ এই গাছ মাঝারি আকৃতির। কাণ্ড গোলাকার ও কালো বর্ণের। শীর্ষ গোলাকৃতি এবং নিচের ডালপালাগুলো কিছুটা নমনীয়। অজস্র কালো রঙের শাখা-প্রশাখার নিবিড় বিন্যাস ও পত্রঘন সজ্জায় এই গাছ বেশ ঝোপাল ধরনের। এই গাছের পাতা বেশ আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম ধরনের। গড়নটা লম্বাটে ও বর্শাফলাকৃতির, বসন্তের শেষভাগে তামাটে রঙের কচিপাতা গজায়। গ্রীষ্ফ্মের শুরুতেই গাছে ফুল আসে। পাকে বর্ষার শেষ দিকে। এই ফল গোলাকার ও হলুদ বর্ণের। শাঁস আঠালো, নরম ও সুস্বাদু। শুধু কাক ও বানরই নয়, শিশুরাও এই ফল পছন্দ করে। নৌকা, জাল ও চামড়ার নানান কাজে ফলের আঠা ও শাঁস ব্যবহূত হয়। কাঁচা ফলের নির্যাস মাছ ধরার জালে ব্যবহার করা হয় বলে এ গাছের প্রচলিত আরেকটি নাম জাইল্যা গাব। এ গাছের ফুল ও বীজতেল নানান রোগ নিরাময়ে কাজে লাগে।

মন্তব্য


অন্যান্য