পরিবেশ

প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেয়া চলবে না: তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি

প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৯

প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেয়া চলবে না: তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ— ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

ইউনেস্কোর সতর্কতা সত্ত্বেও উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সরকার এখনও সুন্দরবন ঘেঁষে রামপাল প্রকল্প অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থাটিকে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বনের আরও কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আরও তিন শতাধিক ক্ষতিকর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এতে সুন্দরবন তার বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা হারাতে বসেছে। উন্নয়নবিনাশী এসব প্রকল্পের জন্য জনগণের অর্থ বরাদ্দ দেয়া চলবে না।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে এসব একথা বলা হয়।

রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'রামপাল, রূপপুর ও বাজেট ২০১৯-২০' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আবদুস সাত্তার, আবুল হাসান রুবেল, মাহা মির্জা, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা প্রমুখ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার উন্নয়নের নামে এমন অনেক প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য শুধু আর্থিক বোঝাই সৃষ্টি করবে না, প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশ করে জননিরাপত্তাকে বিপর্যস্তও করবে। সবার বিরোধিতা সত্ত্বেও জোর করে রামপাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে– নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সুন্দরবনের পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) ভেতরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বনের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলবে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অস্বাভাবিক খরচের বিষয়টি ইতিমধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। গত ৯ বছরে এই খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের মোট বাজেটের ৫ ভাগের এক ভাগ। এখানে নির্মাণ কাজে ফিক্সড কস্ট মডেলের পরিবর্তে নির্মাণ চুক্তি হয়েছে 'কস্ট প্লাস' মডেলে। এর ফলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের পক্ষে খরচের অংক দফায় দফায় বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে।

আনু মোহাম্মদ আরও বলেন, কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ আপাদমস্তক রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য বছরে প্রায় ৪৭ লাখ টন কয়লা আমদানি করতে হবে বাংলাদেশকে। সরকার এখন পর্যন্ত ২২টি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করেছে। এসব প্রকল্পের কয়লা পরিবহনে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে। এর বিপরীতে তুলনামূলক ভাবে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ নেই। যেখানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই নয়, ভারতেরও মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাজেট বরাদ্দ এবং রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

তিনি রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সব প্রকল্প বাতিল, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের 'দায়মুক্তি আইন' বাতিল, সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান। এসব দাবিতে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে শনিবার দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়।

মন্তব্য


অন্যান্য