পরিবেশ

প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৯

প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বছরে ওয়ানটাইম প্লাস্টিক বোতল ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার টন। বর্তমানে বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ টনে। একইভাবে বিকল্প চটের ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বাজারে এখনও পলিথিন ব্যাগের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মো. রেজাউল করিম বাবলু ও খোদেজা নাসরিন আক্তার।

বৈঠক শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বার্ষিক ওয়ানটাইম প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার হতো ১৫ হাজার টন। বর্তমানে তা ব্যবহার হয় ১২ লাখ টন। সারাবিশ্বে এ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোনো কাজ নেই। এর ব্যবহার এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের কার্যক্রম আরও জোরদার এবং পলিথিন বর্জ্য আমদানি করে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ও রফতানি করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়।

এদিকে, রাজধানীর আমিনবাজারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ল্যান্ডফিলটি চলছে কোনো রকমের পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই। ২০০৭ সাল থেকে এখানে বর্জ্য ডাম্পিং শুরু হয়। এত দিনেও কোনো রকমের ছাড়পত্র ছাড়া বন্যাপ্রবণ এ স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, তার সদুত্তর দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়েও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

বৈঠকে সাভারের ট্যানারি নিয়েও আলোচনার কথা জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ট্যানারির তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটা ব্যবস্থা থাকলেও অন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সে রকমভাবে নেই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে আগামী অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০০ কোটি টাকা প্রদানের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে ফারমার্স ব্যাংকে (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) রাখা জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের স্থায়ী আমানতের টাকা দ্রুত ফেরত পেতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

মন্তব্য


অন্যান্য