পরিবেশ

পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগ

বিদ্যালয়ে গ্রিন ক্লাব ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন হবে

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৮

বিদ্যালয়ে গ্রিন ক্লাব ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন হবে

  সমকাল প্রতিবেদক

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোতে গ্রিন ক্লাব গঠন ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন কার্যক্রম সফল করার জন্য ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের 'করবী' সম্মেলন কক্ষে গ্রিন ক্লাব ও অক্সিজেন ব্যাংক সফলভাবে পরিচালনার জন্য একটি খসড়া গাইড শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে এক কর্মশালয় পরিবেশ অধিদপ্তর এসব তথ্য জানায়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুল কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. শামীম জাহান ও বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, স্কুলে গ্রিন ক্লাব কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সেভ দ্য চিলড্রেন ও গ্রিন সেভার্স এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়গুলোর সহযোগীতা কামনা করেছে। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর কিছু স্কুলে ইতোমধ্যে গ্রিন ক্লাব গঠন ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের পরিবেশ মনস্ক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর, সেভ দ্য চিলড্রেন ও গ্রিন সেভার্স এসোসিয়েশন কর্তৃক বিদ্যালয়সমূহে গ্রিন ক্লাব গঠন ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগের প্রসংসা করেন।

ড. নুরুল কাদির পরিবেশ সুরক্ষায় দেশে এবং আন্তজাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের গৃহিত বিভিন্ন কার্যক্রম উল্লেখ করেন এবং পরিবেশ ভাবনাকে হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানন জানান।

শামীম জাহান কর্মশালা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে এ ধরণের কর্মসূচিতে শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এক দশকে বায়ুদূষণে মৃত্যু বেড়েছে ১১ গুণ


আরও খবর

পরিবেশ

বাপার সেমিনারে বক্তারা

এক দশকে বায়ুদূষণে মৃত্যু বেড়েছে ১১ গুণ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণে বছরে ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ মারা যায়। এ সংখ্যা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ১০ গুণ। পরিবেশ দূষণে মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয় ৫৪ হাজার কোটি টাকার। অন্যদিকে বায়ুদূষণে বছরে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০ জন মারা যায়। এটা এক দশক আগের তুলনায় ১১ গুণেরও বেশি।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলছে, পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবেশ আইনের যথাযথ সংশোধন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, শরীফ জামিল, অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, শাহজাহান মৃধা বেণু প্রমুখ।

অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, দূষণ আমাদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। ইটভাটা, পুরনো গাড়ি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ মানুষের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কার্বনের মতো বিষাক্ত গ্যাস আমরা প্রতিনিয়ত গ্রহণ করছি। ঢাকা শহরে একদিক থেকে বাতাস ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হতে পারে না। কারণ সরু রাস্তা ও বহুতল ভবন। এর ফলে বিষাক্ত গ্যাস, ধুলা, বালুযুক্ত বাতাস ঘুরেফিরে মানুষের শরীরেই প্রবেশ করছে। সরকার ২০ বছরের পুরনো আইন দিয়েই বর্তমান পরিবেশ নীতি পরিচালনা করছে। পরিবেশ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী আইন করতে হবে।

সিরাজুল ইসলাম মোল্লা সাম্প্রতিককালের বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। প্রায় এক দশক আগে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল যে, বাংলাদেশে তখন বছরে ১৫ হাজার মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে মারা যেত। সেই বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল যে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণজনিত কারণে ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছে শহর এলাকায়।

মিহির বিশ্বাস বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় সব রাস্তাই বর্তমানে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে। আহম্মেদ কামরুজ্জামান বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিবেশ দূষণে বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি এখনই এই দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আইনের যথাযথ সংশোধন ও তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।


File:- বায়ুদূষণে বছরে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০ জন মারা যায়, যা এক দশক আগের তুলনায় ১১ গুণেরও বেশি।

সংশ্লিষ্ট খবর