পরিবেশ

বাপার সেমিনারে বক্তারা

এক দশকে বায়ুদূষণে মৃত্যু বেড়েছে ১১ গুণ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮

এক দশকে বায়ুদূষণে মৃত্যু বেড়েছে ১১ গুণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণে বছরে ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ মারা যায়। এ সংখ্যা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ১০ গুণ। পরিবেশ দূষণে মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয় ৫৪ হাজার কোটি টাকার। অন্যদিকে বায়ুদূষণে বছরে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০ জন মারা যায়। এটা এক দশক আগের তুলনায় ১১ গুণেরও বেশি।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলছে, পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবেশ আইনের যথাযথ সংশোধন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, শরীফ জামিল, অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, শাহজাহান মৃধা বেণু প্রমুখ।

অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, দূষণ আমাদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। ইটভাটা, পুরনো গাড়ি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ মানুষের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কার্বনের মতো বিষাক্ত গ্যাস আমরা প্রতিনিয়ত গ্রহণ করছি। ঢাকা শহরে একদিক থেকে বাতাস ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হতে পারে না। কারণ সরু রাস্তা ও বহুতল ভবন। এর ফলে বিষাক্ত গ্যাস, ধুলা, বালুযুক্ত বাতাস ঘুরেফিরে মানুষের শরীরেই প্রবেশ করছে। সরকার ২০ বছরের পুরনো আইন দিয়েই বর্তমান পরিবেশ নীতি পরিচালনা করছে। পরিবেশ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী আইন করতে হবে।

সিরাজুল ইসলাম মোল্লা সাম্প্রতিককালের বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। প্রায় এক দশক আগে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল যে, বাংলাদেশে তখন বছরে ১৫ হাজার মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে মারা যেত। সেই বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল যে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণজনিত কারণে ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছে শহর এলাকায়।

মিহির বিশ্বাস বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় সব রাস্তাই বর্তমানে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে। আহম্মেদ কামরুজ্জামান বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিবেশ দূষণে বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি এখনই এই দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আইনের যথাযথ সংশোধন ও তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সরকারি প্রতিষ্ঠানের দূষণে মরছে বংশী


আরও খবর

পরিবেশ

নদীকৃত্য দিবস আজ

সরকারি প্রতিষ্ঠানের দূষণে মরছে বংশী

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলতাব হোসেন, ঢাকা গোবিন্দ আচার্য্য, সাভার

ঢাকার আশপাশে চারটি নদী। তার একটি বংশী। সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) পরিশোধিত তরল শিল্পবর্জ্যে মরছে এই নদীটি। দূষণের জন্য ডিইপিজেড ৮০ শতাংশ এবং অন্য ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ২০ শতাংশ দায়ী। আর ৮২ জন দখলদারের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগির শুরু হচ্ছে দখল-দূষণের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সরেজমিন দখল ও দূষণকারী চিহ্নিত করে তৈরি করেছে প্রতিবেদনটি। এখানে ৮২ ব্যক্তি ও ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। নদী দখলদারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা সমিতি, সাভার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, আওয়ামী লীগ নেতা, শিল্পপতি ও জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে।

নদীর দূষণ বন্ধে কিছু সুপারিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিবেদনটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন তারা। শিগগির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে এটি। তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- জামালপুর জেলার পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণে টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলা হয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বংশী নদী। শিল্পবর্জ্য ও দখল-দূষণে মৃতপ্রায় এটি। শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যের দূষণে  এর পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। ইজারা ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে ড্রেজার দিয়ে। নদীর দু'পাশের তীর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। দু'পাড়ে সমানতালে চলছে দখল ও ভরাট। নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। সাভার থানাঘাট থেকে নামাবাজার, বাঁশপট্টি পৌরসভার বর্জ্য ফেলে ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় দালান। বংশী নদীর ওপর নির্মিত সাভার-ধামরাই সেতুর দু'পাশে দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। নয়ারহাট এলাকায়ও নদী দখলের ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ে। নদীর পূর্ব-পশ্চিম দু'পাশের তীর ঘেঁষে ব্যবসায়ীরা মাটি দিয়ে নদী ভরাট করে বালুর ব্যবসা করছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) বংশী নদী দূষণের জন্য ৮০ শতাংশ আর অন্য ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ২০ শতাংশ দায়ী। প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বংশী নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ডিইপিজেডের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপি পরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে নির্গমন করা যাবে না। যথাযথ তরল বর্জ্য রি-সাইক্লিং ও জিরো ডিসচার্জ প্ল্যান প্রণয়ন এবং শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্য ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বংশী নদীকে বাঁচাতে শিগগির উচ্ছেদ অভিযান ও দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে দূষণের জন্য জরিমানা আদায় করতে হবে।

দূষণের জন্য অভিযুক্ত ১৪ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ঝুমকা টেক্সটাইল, বেলকুচি নিটিং, ডেনিটেক্স, মুসলিম ওয়াশিং, এইচআর টেক্সটাইল, আনলিমা টেক্সটাইল, জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ, আবেদীন টেক্সটাইল, এফকেএন মিলস, গ্রাফিক টেক্সটাইল, ইমাকুলেট টেক্সটাইল, বেইজ পেপার মিল, পার্ল পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস। এসব শিল্প-কারখানার পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইটিপি আছে। অভিযোগ আছে- ইটিপি থাকলেও সার্বক্ষণিক তা চালু রাখা হয় না। কারখানার দূষিত বর্জ্য বংশী নদীতে ফেলা হয়।

বংশী নদীর সঙ্গে ঢাকার আশপাশের অন্যান্য নদীর পানির প্রবাহ থাকায় দূষণ ঢাকার অন্যান্য নদীতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খালেদ হাসান সমকালকে বলেন, 'পরিবেশ অধিদপ্তর বংশী নদীর দূষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সরেজমিন প্রতিবেদনে দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এতে।'

এক সময়ের প্রমত্তা বংশী নদী দূষণ ও দখলের কারণে সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদীটির মরণদশার কারণে নদীতীরবর্তী সেচব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী যেসব মানুষ নদীকে কেন্দ্র করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন, নদীটির মরণদশায় তারা এখন দীর্ঘদিনের পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও ধামরাই অংশে নদীটি বেশি দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাভারের নয়ারহাট থেকে শহীদ রফিক সেতু পর্যন্ত বংশী নদীর প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় দখল এবং অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে নির্গমন করা হচ্ছে। কালো পানির উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্যসহ জনজীবন। সাভার থানা সংলগ্ন নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রায় পাঁচ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্প। সাভার নামাবাজার এলাকায় দেখা গেছে, নদীর তীর দখল করে কয়েকশ' পাকা ও আধাপাকা বসতবাড়ি ও দোকানপাটের মতো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর তীর দখল করে ইট, খোয়া, বালু ফেলে ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে।

সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম শামসুল হক বলেন, 'দখলের কারণে সাভারের অন্তত ১২টি খাল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরতে বসেছে বংশী নদী।'

নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা বলেন, 'উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান নয়ারহাট এলাকায় বংশী নদী দখল করে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন।'

সম্প্রতি সাভারের স্থানীয় এনজিও ভার্ক মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), নিজেরা করি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) যৌথ উদ্যোগে নদী রক্ষায় স্থানীয়দের নিয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয়, বংশী নদী ও তুরাগ নদ অব্যাহত দখল-দূষণের ফলে সাভার এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দখল আর দূষণে বংশী এখন আর নদী নয়, একটি সরু খাল হয়ে গেছে। তুরাগের চেয়েও খারাপ অবস্থা বংশীর। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, নদী ও জলাশয় ভরাট করা যাবে না। তারপরও ভরাট হচ্ছে।'

এ বিষয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার সমকালকে বলেন, সম্প্রতি বংশী নদী সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে আমার নেতৃত্বে। নদীর দখল-দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠান ও দখলদারদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বংশী নদী বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বংশী, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গাকে একসঙ্গে লিংক করে সরকারের ডেল্টা প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করলে আগামীর ঢাকার জন্য বড় কাজ হবে তা।

পরের
খবর

বনাঞ্চলের গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা


আরও খবর

পরিবেশ

ছবি: ফাইল

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশের সব ধরনের বনাঞ্চল ও বনভূমি থেকে গাছ কাটার ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

একই সঙ্গে প্রকল্পের নামে দেশের সব বনাঞ্চল ও বনভূমি থেকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্নিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত। এ ছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের গাছ কাটা ও লাগানোর সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাইদ আহমেদ কবির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

রিটকারী আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির জানান, গণমাধ্যমে গাছ কেটে মহেশখালীতে তেলের ডিপো নির্মাণ, কাপাসিয়ায় বন কেটে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, মানিকগঞ্জে গাছ কেটে সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে সংশ্নিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ৫ মার্চ হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

পরিবেশ সুরক্ষার কথা মনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করুন: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

পরিবেশ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা

  অনলাইন ডেস্ক

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের মান বজায় রেখে এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি যত্নশীল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ গ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (আইইবি) আইইবি’র ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের গুরুভার আপনাদেরই (প্রকৌশলীদের)। কাজেই আমি চাইবো— আপনারা পরিবেশ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।'

কনভেনশনে দেশের প্রাকৃতিক অবস্থা বিবেচনা এবং মিতব্যয়ী হয়ে সব সময় উন্নয়ন পরিকল্পনা করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জলবায়ু, ভৌগলিক অবস্থান, আমাদের মাটি-পানি সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে মাটি ও মানুষের কথা ভেবে সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।'

'যেভাবে খুব মিতব্যয়ী হয়ে, চাষের জমি অপচায় না করে, স্বল্প খরচে সর্বোচ্চ উন্নতি দেশের জন্য যা করতে পারা যায়— সেই কথা সব সময় চিন্তা করতে হবে', যোগ করেন তিনি।

গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গবেষণার মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আমাদের দেশের মাটি, মানুষ, জলবায়ু, আবহাওয়া সব কিছুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে আমরা উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে।'

তিনি বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যখন জাতির পিতা গড়ে তুলছিলেন সেই সময় মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে তিনি আমাদেরই প্রকৌশলীবৃন্দের সহায়তায় এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলেন।

বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিনজন প্রকৌশলীকে আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৮-তে ভূষিত করেন— ফোকাস বাংলা

যুদ্ধের ভয়াবহতায় সেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা থেকে শুরু করে সমগ্র বাংলাদেশ তখন একটি ধবংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'কিন্তু জাতির পিতার নেতৃত্বে অত্যন্ত দ্রুত তখন আমাদের প্রকৌশলীরা দেশের এই অবকাঠামোতে পুনর্গঠন করেন। আর এখনো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীবৃন্দ সার্বিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।'

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের অ্যাডহক ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, তার সরকারের ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণের ফলেই দেশ আজকে এতটা এগিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন আজকে সমগ্র বিশ্বের কাছে দৃশ্যমান। এখানে অন্য কোনো কিছু নয় একটি রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকতে হয়। বিশেষ করে জনগণের কাছে করা ওয়াদা রক্ষার জন্য।

পূর্বের চেয়ে তার সরকার দেশের বাজেট প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তাবায়ন করা প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গেলবারে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আর এই উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রকৌশলীদের।

প্রকৌশলীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই তার সরকারের পক্ষে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে দেশের প্রকৌশলীদের এ সময় তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রকৌশলীদের কল্যাণে তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের এই ভবন যে জায়গাটায় সেখানকার প্রায় ১০ বিঘা জমি তার সরকার ইনস্টিটিউশনকে প্রতীকী মূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়। শুধু তাই নয়, এই ভবন তৈরির টাকাও সরকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া সরকার মেঘনা নদীর তীরে প্রকৌশলীদের স্টাফ কলেজ নির্মাণের জন্যও ৭২ বিঘা জমি প্রতীকী মূল্যে এবং সেই কলেজ নির্মাণেরও জন্যও ৪৬ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে। এছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র এবং উপকেন্দ্র নির্মাণেও তার সরকার অর্থ ও জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিনজন প্রকৌশলীকে আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৮-তে ভূষিত করেন— ফোকাস বাংলা

বিশ্বে নতুন নতুন প্রযুক্তির যে বিকাশ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে এবং ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট সেন্টার করে স্যাটেলাইট নিয়ে দেশেই গবেষণা করা হবে যাতে করে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট নিজেরাই উৎক্ষেপণ করতে পারে সেদিকেই দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি বলেন, 'আমরা কারো কাছ থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।'

তার সরকার ধীরে ধীরে ই-টেন্ডারে চলে যাওয়ায় আগের মত এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, 'কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে এখন বাকি আছে, সেখানেও দ্রুত আমাদের ই-টেন্ডারে যেতে হবে যাতে করে দুর্নীতিমুক্তভাবে আমরা কাজ করতে পারি। উন্নতভাবে কাজ করতে পারি এবং কাজের মান যেন ঠিক থাকে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশে শিল্পায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প গড়ে তোলার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়। জলাধারের যেন ক্ষতি না হয়। নদী ও খালবিল বাঁচাতে হবে। এতে পরিবেশ সুন্দর থাকে।'

তিনি এ সময় জলাধার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, 'আমাদের জলাধার রক্ষা করা দরকার। রাস্তা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় এটি খেয়াল রাখতে হবে। ঢাকা শহরে খাল-পুকুর এখন পাওয়া যায় না। আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে জেলখানার পুকুর থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।'

বাংলাদেশের ভূখণ্ড খুব সীমিত এবং লোকসংখ্যা বিশাল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এই জনগণকে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। সাথে সাথে তাদের জীবন-মান যেন উন্নত হয় সে প্রচেষ্টাও সরকারকে অব্যাহত রাখতে হবে।'

এ কারণেই তার সরকার বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কারিগরি বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি এ সময় কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ সংক্রান্ত গবেষণার ওপরও জোর দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, 'নতুন নতুন গবেষণার ফলে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধান, শাক-সবজি চাষ হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়েও আমরা বাইরে রফতানি করতে পারছি। এ কারণে ভবিষ্যতে আমরা কৃষিজাত শিল্পের দিকে গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ পৃথিবী যতদিন থাকবে খাদ্যেরও ততদিন প্রয়োজন আছে। খাদ্যের চাহিদা কোনো দিন ফুরাবে না।'

তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনের রাস্তার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ (বুলেট ট্রেন) স্থাপন এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায়ও তার সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় আঞ্চলিক যোগযোগ স্থাপনের জন্য বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত নেপাল) এবং বিসিআইএন-ইসি (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর) যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। আমাদের এ অগ্রযাত্রা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।'

আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুর সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ ও ঢাকা কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ সিকদার স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন শিপলু ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিনজন প্রকৌশলীকে আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৮-তে ভূষিত করেন। স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা হলেন— প্রকৌশলী দিপক কান্তি দাস, প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভূইয়া ও প্রয়াত প্রকৌশলী মো. খিজির খান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা কেন্দ্র, শ্রেষ্ঠ উপকেন্দ্র হিসেবে পানা উপকেন্দ্র, আইবি শ্রেষ্ঠ ওভারসিজ চ্যাপ্টার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিভাগ হিসেবে আইইবি’র কম্পিউটার কৌশল বিভাগকে পুরস্কৃত করেন।