আফ্রিকা

বর্ণবাদের অভিযোগে স্থগিত গান্ধীর মূর্তি নির্মাণ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৮

বর্ণবাদের অভিযোগে স্থগিত গান্ধীর মূর্তি নির্মাণ

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী- ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

আফ্রিকার দেশ মালাওইতে ভারতের স্বাধীনতার জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। 

'গান্ধী মাস্ট ফল' নামের একটি আন্দোলনকারী সংগঠন সম্প্রতি মালাওই আদালতে এক আবেদনে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, 'কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আমরা বলতে পারি এই ধরনের বাক্য ব্যবহারে গান্ধীর প্রতি ঘৃণা এবং বিরাগ প্রকাশিত হচ্ছে।'

এরপর আদালত ওই মূর্তি নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভারতের সাথে এক কোটি ডলারের এক নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গান্ধী মূর্তি তৈরির কথা ছিল।

বিবিসি জানায়, এই চুক্তি অনুযায়ী, মালওইর বাণিজ্যিক রাজধানী ব্ল্যানটায়ারে একটি কনভেনশন সেন্টারের নামকরণ হওয়ার কথা ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐ নেতার নামে।

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ভেংকাইয়া নাইডুর এই সেন্টার এবং মূর্তির উদ্বোধন করার কথা ছিল।

কী বলেছেন গান্ধী?

গান্ধী ভারতের স্বাধীনতার নায়ক হলেও আফ্রিকায় তার ২০ বছর ব্যাপী জীবনের নানা দিক নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এই মূর্তি নির্মাণে জনগণের কোন উপকার হবে না বলে যুক্তি দেখিয়ে ৩০০০ মালাওইয়ান এক আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

গান্ধীর বর্ণবাদী পরিচয় তুলে ধরে দু'বছর আগে ঘানার দুই বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক তাদের ক্যাম্পাস থেকে গান্ধী মূর্তি সরিয়ে নেয়ার ডাক দেন।

ভারতের জাতির পিতার লেখা থেকে প্রমাণ তুলে ধরে তারা বলেন, গান্ধী আফ্রিকানদের 'বর্বর অথবা আফ্রিকার আদিবাসী' এবং 'কাফির' বলে বর্ণনা করেছেন।

আগে কাফির শব্দটি কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের প্রতি বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যবহার করা হতো।

আফ্রিকা জুড়ে বিক্ষোভ

২০১৫ সালে এক ব্যক্তি দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি গান্ধী মূর্তির ওপর সাদা রঙ ঢেলে দিয়েছিল।তবে আফ্রিকায় শুধু গান্ধীর মূর্তি নিয়েই প্রতিবাদ হয়নি।

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ শতকের ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সিসিল রোডসের একটি মূর্তি সরিয়ে নেয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, মূর্তিটির মারাত্মক প্রতীকী শক্তি রয়েছে এবং এর মাধ্যমে এমন একজনের গৌরবগাঁথা তুলে ধরা হয়েছে যিনি কৃষ্ণাঙ্গদের শোষণ করেছেন এবং তাদের জমি কেড়ে নিয়েছেন।'


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মুগাবের ব্রিফকেস থেকে ১০ লাখ ডলার চুরি


আরও খবর

আফ্রিকা

রবার্ট মুগাবে -সংগৃহীত

  অনলাইন ডেস্ক

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ব্রিফকেস থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার চুরি হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, চলতি মাসেই মুগাবের দেড় লাখ ডলার চুরির অভিযোগে আদালতে গিয়েছিলেন তিন ব্যক্তি। কিন্তু আদালতে যে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে মুগাবে বলছেন, হারানো অর্থের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

৯৪ বছর বয়সী মিস্টার মুগাবেকে ২০১৭ সালে অনেকটা জোর করেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো দেশটির সেনাবাহিনী। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী। এর আগে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর দেশ শাসন করেছেন মুগাবে।

তবে মুগাবের লাখ লাখ ডলার হারানোর খবর এমন সময় এলো যখন দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত হেরাল্ড নিউজ পেপারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে দেয়া তথ্য উপাত্ত থেকে জানা গেছে ২০১৬ সালে এসব ডলার নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়েছিলেন তখনকার প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। সেখানে তিনি সুটকেসভর্তি ডলার এক আত্মীয়কে দিয়েছিলেন, যিনি তার বাড়ি দেখাশোনা করতেন। আর পুরো অর্থ চুরি হয়েছে গত পহেলা ডিসেম্বর থেকে এ বছর জানুয়ারির শুরুর সময়ের মধ্যে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুগাবে তার আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ডলারের বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাননি, বরং ওই আত্মীয় বলেছেন তিনি কিছুই জানেন না। পরে মুগাবে আরেকজন কর্মীকে বিষয়টি দেখতে বলেন। এরপর যখন ব্রিফকেসটি পাওয়া যায়, তখন সেটিতে মাত্র ৭৮ হাজার ডলার ছিলো।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আদালতে দুই ব্যক্তির নাম বলা হয়েছে। চুরি করা ডলার তারা গাড়ি, বাড়ি ও পশু ক্রয়ে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় থাকার সময় বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য তীব্র সমালোচিত ছিলেন রবার্ট মুগাবেকে। এমনকি দেশটি যখন চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়, তখনো তার জীবনযাপনের ধরণ নিয়ে ক্ষোভ ছিলো দেশটির বহু মানুষের মধ্যে। এখন আর তিনি ক্ষমতায় নেই। কিন্তু তাই বলে তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। ফলে বারবার আলোচনায় আসছেন তিনি। এবার আলোচনায় এসেছেন ব্রিফকেস ভর্তি ডলারের খবর সঙ্গে নিয়ে।

পরের
খবর

সুদানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২৪


আরও খবর

আফ্রিকা

রুটির দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুদানজুড়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়

  অনলাইন ডেস্ক

আফ্রিকার দেশ সুদানে গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে।

দেশটির এক কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রুটির দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুদানজুড়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পদত্যাগের দাবি করছে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি সহিংস ঘটনার তদন্তকারী প্রসিউিটর অফিস মনোনিত প্যানেলের প্রধান আমের ইবরাহীম বলেন, ‘১৯ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় মোট ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।’

এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চলমান বিক্ষোভে দুই নিরাপত্তাকর্মীসহ ২২ জন নিহত হয়েছে।

ইবরাহীম বলেন, গাদারাফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বিক্ষোভকালে সংঘর্ষে শিশু ও চিকিৎসা কর্মীসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা দেশের বিভিন্ন শহরে কয়েকশ' বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। কিন্তু দাঙ্গা পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।